তিস্তা সেচ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গবেষকরা

১ দিন আগে
এবারও তিস্তা সেচ প্রকল্পের বাইরে থাকছে ২৯ হাজার হেক্টর কৃষি জমি। পানির অভাবে কখনই এই প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত সেচের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। অথচ এই প্রকল্প সংস্কার ও সম্প্রসারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড খরচ করছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তবে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না করে এই প্রকল্প কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকরা।

ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারে মরতে বসেছে উত্তরের জীবন রেখা তিস্তা। পানির অভাবে শুধু জীবন জীবিকাই সংকটে পড়েনি, চরম হুমকিতে জীব বৈচিত্র্য। অথচ এই তিস্তার পানির ওপর নির্ভর করেই হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে তিস্তা সেচ প্রকল্পে।

 

সেচ প্রকল্পের আওতায় নতুন নতুন অবকাঠামো হলেও এখনও অনেক এলাকাতেই পানি পাননি কৃষক। এমনকি অনেক সেচ ক্যানেল রয়েছে, যেখানে কখনই তিস্তার পানি আসেনি। ফলে কৃষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ কিংবা ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্রের ওপর।

 

১৯৯০ সালে প্রথম দফায় কাজ শেষ হওয়ার পর ৮৪ হাজার ৩৭৮ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রকল্পটি চালু করা হলেও পানির অভাবে কখনই সেচের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি প্রকল্পটি।

 

আরও পড়ুন: তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত চীন

 

গবেষকরা বলছেন, তিস্তার পানি নিশ্চিত না করে সেচ প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় তেমন সুফল বয়ে আনবে না।

 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 

তখনই একটা রিজার্ভার তৈরি করা কথা ছিল। কিন্তু সেই জায়গায় আমরা ইফর্ড কম দিয়েছি। এজন্য আমি মনে করি, এ প্রকল্পটা আরেকটু ভেবেচিন্তে করার কথা ছিল।

 

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, পানির প্রাপ্যতা পরীক্ষা করেই এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এক লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হবে।

 

আরও পড়ুন: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি

 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবার রহমান বলেন, 

নতুন ২০টি ওয়াটার কন্ট্রোল স্ট্র্যাকচার ধরা আছে। এগুলোর নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ শেষ হলে সব মিলিয়ে এক লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারবো।

 

২০২১ সালে এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ খাল সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০২৪ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন