ঢাকা-১০: ধানমন্ডির মতো উন্নয়নের আসা দেখছেন কামরাঙ্গীরচরবাসী

৩ সপ্তাহ আগে
ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ আর কামরাঙ্গীরচরের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসন। ৩ লাখ ৮৮ হাজারের ভোটারের এই আসনে রয়েছে বড় কাপড় এবং চামড়াজাত পণ্যের বাজার, ঢাকা কলেজ, বিজিবি হেড কোয়ার্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠান। তবে এলাকাভেদে বহুমাত্রিক সমস্যায় জর্জরিত এই আসন।

ধানমন্ডি-কলাবাগানের ঝকঝকে সড়ক আর সুউচ্চ ভবন দেখলে মনে হতে পারে, আসনজুড়েই রয়েছে উন্নত নাগরিক সুবিধা, আর এটি পুরোই বাসযোগ্য জনপদ। কিন্তু ধানমন্ডির মূল সড়ক পেরিয়ে আবাসিক এলাকা কিংবা অলিগলিতে গেলেই চোখ ছানাবড়া।

 

জলাবদ্ধতা, অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠের সংকটসহ রয়েছে নানা সমস্যা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নজরে এসব সমস্যা তুলে ধরছেন ভোটাররা।

 

এদিকে, ঢাকা-৭ এবং ২ এর পর এবার ঢাকা ১০-এ যুক্ত হয়েছে কামরাঙ্গীরচরের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড। তীব্র গ্যাস সংকট, অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা সংকটে জর্জরিত এই এলাকার মানুষ। ধানমন্ডির আসনে যুক্ত হওয়ায় এবার এলাকার উন্নয়নের আশা বাসিন্দাদের।

 

সবুজ নামে কামরাঙ্গীরচরের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা তো এতদিন অবহেলায় ছিলাম। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো না। যেহেতু ঢাকা-১০ আসনে যুক্ত হয়েছে আমাদের এলাকা, আশা করি এবার উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে।’

 

রফিক নামে এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘ধানমন্ডিতে যেমনটা উন্নয়ন হয়েছে আমাদের এখানেও দরকার। নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রার্থী আমাদের দিকে নজর দিলেই হয়। আমার এলাকার উন্নয়ন দেখে যাওয়ার ইচ্ছা।’ 

 

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম রবি। আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়বেন জসিম উদ্দিন সরকার। অন্যদিকে, এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতা, সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

মূলত এই তিন প্রার্থীর জমজমাট ভোট যুদ্ধ হতে পারে আসন্ন নির্বাচনে। এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থীও আছেন আসনটিতে। প্রার্থী ঘোষণা করেনি এনসিপিও।

 

আরও পড়ুন: ঢাকা-৯: ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করাই আমাদের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পৃহাকে বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। এই আসনের জনগণের সবরকম সমস্যা নিয়ে বিস্তারিতভাবে কাজ করবো।’

 

মাদক, কিশোর গ্যাংমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। অন্যদিকে, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন এলাকা গড়তে সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলছেন বিএনপি প্রার্থী।

 

জাময়াত মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই আসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার প্রেয়োজন রয়েছে। মাদকের প্রভাবে পাড়া-মহল্লা অতিষ্ঠ। এই বিপথগামী গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার জন্য কারো কাছে আশার কথা শুনতে পায়নি। আমরা সেই আসার কথা বলছি।’    

 

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ধানমন্ডির লেক অঞ্চলটা অনিরাপদ, অপরিচ্ছন্ন। এটাকে আরেকটু ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। খেলার মাঠগুলো এখনো পর্যন্ত পরিত্যক্ত পড়ে রয়েছে। আবার কিছু মাঠকে কিছু মানুষ কুক্ষিগত করে রেখেছে। সে বিষয়গুলো আমার মাথায় রেখেছি।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন