মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নগরবাসীকে এই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক যেই বৈষম্যের বেড়াজাল সৃষ্টি হয়েছিল সেই বৈষম্য ভেঙে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিকামী জনতা হৃদয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করে। এরই মধ্যে ২৫ মার্চ পাকবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে! এই হত্যার পর বাঙালি জাতি আর চুপ করে থাকতে পারেনি। ফলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা আসার পর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা, পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।’
তারা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসন মুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আজও দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব করলে দেখা যায় বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।’
আর পড়ুন: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস /যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জামায়াতে আমিরের
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ স্বাধীনতার নামে জনগণ কেবলমাত্র একটি পতাকা পেয়েছে। স্বাধীন দেশের জনগণ নিজ দেশের শাসক গোষ্ঠী দ্বারা জুলুম-নির্যাতনের শিকার। স্বাধীনতা পরবর্তী যত সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে প্রত্যেকেই জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আনুগত্যে নিয়োজিত ছিল। যার কারণে ভারতীয় আগ্রাসন থেকে জাতি মুক্তি পায়নি।
নেতারা বলেন, ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা না হয়ে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে-স্তরে। প্রতিবাদী আর বিদ্রোহী এই জাতি নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ২০২৪-এর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশ আবার নতুন করে দ্বিতীয়বারের মত স্বাধীনতা অর্জন করেছে।’
তারা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অপশাসনের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের জুলুম-নির্যাতন, খুন-গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘনের হাত থেকে মুক্ত হয়ে দেশের মানুষ মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছে। দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং শান্তিতে-স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারছে। পতিত সরকারের দোসররা এবং দেশের কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির সহায়তায় ছাত্র-জনতার এই গণআন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা দেশকে আবার অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে এবং পতিত স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনার অপতৎপরতা শুরু করেছে। এমতাবস্থায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। শান্তি-স্বস্তির নতুন বাংলাদেশ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’
নেতারা আরও বলেন, ‘আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঐ সমস্ত জনতাকে যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা আরও স্মরণ করছি জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সকল শহীদদের এবং আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের। আমরা সকল শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
মহান স্বাধীনতা দিবসে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রতিটি নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান নেতারা। সেই সঙ্গে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর কল্যাণ কামনা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করার দোয়া করেন।