ডিসির বাসায় ৬ বছরে ২২ দফা সংস্কারের নামে কোটি টাকা সাবাড়!

১ সপ্তাহে আগে
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবনে সংস্কারের নামে চলেছে লঙ্কাকাণ্ড। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৬ বছরে এই এক বাসভবনেই সিভিল, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক রিপেয়ারিংয়ের কাজ করা হয়েছে মোট ২২ বার।

আর এসব কাজের বিপরীতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ দেখানো হয়েছে ৮৮ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯৫ টাকা। কারণ জানতে চাইলে গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। 


প্রতি বছরই সংস্কার:

গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চারবার, ১৯-২০ অর্থবছরে একবার এবং ২০-২১ অর্থবছরে চারবার রিপেয়ারিংয়ের কাজ হয়েছে। অবাক করার মতো তথ্য হলো, ২১-২২ অর্থবছরে কোনো কাজ না হলেও এর পরবর্তী দুই বছরে অর্থাৎ ২২-২৩ ও ২৩-২৪ অর্থবছরে চার দফা করে একই ধরনের কাজ দেখিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

কেন প্রতি বছর সংস্কার: 

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রোকন উদ দৌলা জানান, সিভিল ও স্যানিটারি রিপেয়ারিংয়ের উপকরণ যেমন-টাইলস, বেসিন বা কমডের মেয়াদকাল কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর হয়ে থাকে। সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৭ বছর। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো রিপিয়ারিংয়ের প্রয়োজন হলেও তার খরচ খুবই সামান্য। 


গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাভেদ হোসেন বলেন, গাইবান্ধা গণপূর্ত বিভাগ প্রায় প্রতি বছরই এসব উপকরণ পরিবর্তন বা মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করেছে। 


সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। 

আরও পড়ুন: ভোগান্তি কমাতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু করার উদ্যোগ

বাসদ-মার্কসবাদী গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক আহসানুল হাবীব সাঈদ বলেন, ডিসি সাহেবের বাসায় অপ্রয়োজনীয় সংস্কারের নামে কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। পুরনো ডিসি সাহেব যাওয়ার পর নতুন কেউ আসলে তিনি পছন্দ না করলেই ফের সব পরিবর্তন বা সংস্কারের ধুম পড়ে। এটি আসলে দুর্নীতির একটি কৌশল।


প্রশ্নের মুখে ওয়াশরুমে প্রকৌশলী:

এ বিপুল অর্থের অপচয় নিয়ে যখন গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারকে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ক্যামেরার সামনে থেকে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। অন্য উপসহকারী প্রকৌশলীরাও এই দায় নিতে রাজি হননি। গণপূর্তের উপ সহকারী প্রকৌশলী বীনা রানী ও সাদ্দাম হোসেনও কথা বলতে রাজী হননি। গাইবান্ধা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় বর্তমানে কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিপুল খরচের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 


এদিকে সচেতন মহলের দাবি, তৎকালীন জেলা প্রশাসক এবং গণপূর্তের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ আছে কি না, তা উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন