মুম্বাই যে প্রতিভা চিনতে ভুল করেনি, সেটা নিজের প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করেছেন অশ্বনী। তবে ভিন্ন চিত্র কলকাতার জন্য। প্রতিভা চিনতে তারা শুধু ভুলই করেনি, দিয়েছে মাশুলও। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ট্রায়ালে গিয়ে বাদ পড়েছিল এ পেসার।
আইপিএলের প্রতি মৌসুমেই কিছু ক্রিকেটারের ভাগ্য খুলে যায়। যশস্বী জয়সওয়াল ও রিঙ্কু সিংদের গল্প সবারই জানা। এবারের মৌসুমে আলোচনায় ২৩ বছরের পেসার অশ্বনী। তার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
চণ্ডীগড়ের ঝনঝেরি গ্রামে জন্ম অশ্বনীর। সেখান থেকে মোহালিতে পাঞ্জাব ক্রিকেট সংস্থার স্টেডিয়ামের ১১ কিলোমিটার দূরে। প্রতি দিন ভোর ৫টার সময় ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে নিতেন মাঠে যাওয়ার জন্য। ভরসা ছিল তার সাইকেল। কখনও কখনও বাবার থেকে ৩০ রুপি নিতেন অটো করে যাওয়ার জন্য।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাবা হর্কেশ বলেন, ‘বৃষ্টি পড়ুক বা রোদ উঠুক, অশ্বনী মোহালি যাবেই। পরে মুল্লানপুরের স্টেডিয়ামে যেত। কখনও সাইকেলে করে, কখনও অটো করে যেত। মনে আছে ৩০ রুপি চাইত আমার কাছে অটো করে যাওয়ার জন্য। তাকেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ৩০ লাখ রূপি দিয়ে (নিলাম থেকে) কিনেছে। আমি জানতাম ওর জন্য অর্থ খরচ করলে সেটা ব্যর্থ হবে না। প্রতি রাতে ১০টার মধ্যে শুয়ে পড়ত। পরের দিন উঠত ভোর ৫টায়। সারা দিনই অনুশীলন করত।’
আরও পড়ুন: কলকাতাকে উড়িয়ে প্রথম জয় মুম্বাইয়ের
গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করতেন অশ্বনী। সেই স্কুলের মাঠেই প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু। বড় ভাই শিবরানা এবং বন্ধুদের ডেকে নিয়ে যেতেন ওই মাঠে। অশ্বনী বল করতেন, বাকিরা ব্যাটিং। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছিল সেই খেলা। ১১ বছরের মধ্যে অশ্বনী পৌঁছে গিয়েছেন ওয়াংখেড়েতে। পাঞ্জাবের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময় তিনি সতীর্থ হিসাবে পেয়েছিলেন অভিষেক শর্মা, রামানদীপ সিং এবং অর্শদীপ সিংকে। ২০১৯ সালে রঞ্জি অভিষেক হয়েছিল অশ্বনীর।
বড় ভাই শিবরানা বলেন, ‘গ্রামের কিছু ছেলে এবং আমাকে ডেকে নিয়ে মাঠে যেত অশ্বনী। ভোরবেলা স্কুলের মাঠে খেলতাম। আমরা ব্যাট করতাম আর অশ্বনী বল করত। মাঝেমধ্যে গ্রামের কাছে একটা মাঠে যেত ক্রিকেট খেলতে। সেখানে স্থানীয় দলের ছেলেদের সঙ্গে খেলত। সাধারণ জুতো পরেও প্রচণ্ড গতিতে বল করত। অশ্বনীর লক্ষ্য ছিল শুধু ক্রিকেট খেলা। আমরা গর্বিত ওকে নিয়ে।’
মোহালি ক্রিকেট সংস্থার কোচ হরবিন্দর বেদবান ২০১৬ সালে প্রথম বার অশ্বনীকে দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘পেস বোলারের জন্য আমরা এমন ছেলে খুঁজি যাদের দৈহিক গঠন ভালো। বল করার সময় অশ্বনীর পা ঠিক জায়গায় পড়ত না। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করি। খুব ভালো বাউন্সার দিতে পারে ও। সেই সঙ্গে শর্ট বলও ভালো করে। অনেক কম বয়স থেকেই বল সুইং করাতে পারত। একবার আন্তজেলার একটি ম্যাচে এক ওভারে ২০ রান দিয়ে ফেলেছিল। সেই দিন সন্ধেবেলাতেই নেটে মন্থর গতির বল করার অভ্যেস শুরু করে দেয়। সেই সঙ্গে ইয়র্কার দেয়ার অনুশীলনও।’
আরও পড়ুন: ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার বার্তা বিরাট কোহলির
এবারের আসরের নিলাম থেকে মুম্বাই কেনার আগে চেন্নাই সুপার কিংস, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রাজস্থান রয়্যালসের ট্রায়ালে গিয়েছিলেন অশ্বনী। কিন্তু কোনও দলই তাকে কেনেনি।
অশ্বনীর বড় ভাই বলেন, ‘আইপিএলের বিভিন্ন দলে ট্রায়াল দিয়েছিল। জাসপ্রীত বুমরাহ এবং মিচেল স্টার্কের মতো পেসারদের সঙ্গে বল করতে চাইত ও। অশ্বনীর বন্ধুরা চাঁদা তুলে এক সময় বল কিনে দিত ওকে। নিলামে ৩০ লাখ রুপি পাওয়ার পর প্রথমেই ও ক্রিকেট কিট এবং বল কিনে গ্রামের একাডেমিতে দিয়েছিল ছোটদের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার জন্য।’
অভিষেক ম্যাচে ঝলক দেখানো অশ্বনী কতদূর যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।