উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় একটি সশস্ত্র ডাকাত দল অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অধিনায়কের নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস দল তাৎক্ষণিকভাবে ৩ স্তরের কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। এর মধ্যে একটি দল সীমান্ত এলাকায়, একটি দল রঙ্গীখালী পাহাড়ি এলাকায় এবং অপর একটি দল উপকূলীয় এলাকায় বাহারছড়া এলাকায় অবস্থান করেন।
পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে ডাকাত দলটি পাহাড়ে অবস্থানরত অবস্থায় বিজিবির নজরে আসে। সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করার পর বিজিবি সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেললে ডাকাত দলটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি বর্ষণ করে এবং বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী আরেকটি পাহাড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহল দল ওই অস্থায়ী ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবন থেকে জিম্মি ৮ জেলে উদ্ধার
উদ্ধার মালামালের মধ্যে রয়েছে, একটি জি-৩ রাইফেল, জি-৩ রাইফেলের অংশবিশেষ ও একটি ম্যাগাজিন, চারটি ওয়ান শুটার গান, একটি এলজি শুটার গান, একটি এমএ-১ (ভ্যারিয়েন্ট এমকে-২), একটি একনলা গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল), দুইটি সিলিং, তিনটি আরজেস হ্যান্ড গ্রেনেড (লিভারসহ), একটি মর্টারের গোলা, ১৭ কেজি গান পাউডার, ১০টি হাতবোমা তৈরির উপকরণ, আটটি চাপাতি, পাঁচটি ছুরি, একটি কাঁচি এবং মোট ৩০২ রাউন্ড গুলি। এছাড়াও বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহৃত খালি খোসা উদ্ধার করা হয় ৫৪ রাউন্ড।
বিজিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই সশস্ত্র ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। সেই প্রেক্ষিতেই ৬৪ বিজিবির এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

৪ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·