টানা ছয় হারের পর প্রথম জয়ের দেখা পেলো নোয়াখালী

৫ দিন আগে
একের পর এক হারে যেন ক্লান্ত হয়ে গেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ক্রিকেটাররা, হতাশায় ডুবে ছিলেন সমর্থকরাও। একটা জয় যেন নোয়াখালীর কাছে এখন সোনার হরিণ। অবশেষে সমর্থকদের হতাশা থেকে মুক্তি দিলো নোয়াখালী এক্সপ্রেস। রংপুরকে ৯ রানে হারিয়ে বিপিএলে প্রথম জয়ের দেখা পেলো দলটি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে প্রথম ৬ ম্যাচেই হেরে বসে নোয়াখালী। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নিজেদের সপ্তম ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে তারা। তবে ভালো শুরু পেয়েও ১ বল বাকি থাকতে ১৪৮ রানে অলআউট হয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। 

 

লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দেখেশুনে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার দাউইদ মালান ও লিটন দাস। তৃতীয় ওভারে বল করতে আসেন হাসান মাহমুদ। ওভারের শেষ বলটা লিটন যেন বুঝেই উঠতে পারলেন না। ইনসুইং ডেলিভারিতে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৫ রান। 

 

পরের ওভারের শেষ বলে দাউইদ মালানকে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ নবী। ১০ বলে ৭ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। 

 

তৃতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন ইফতিখার আহমেদ ও তাওহীদ হৃদয়। ৮৬ রানের মাথায় ইফতিখার আহমেদকে ফিরিয়ে ৬৩ রানের এই জুটি ভাঙেন জহির খান। হাবিবুর রহমান সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩১ বলে ৩৭ রান করেন এই ব্যাটার। 

 

আরও পড়ুন: বিসিবি মঙ্গলগ্রহে পাঠালে সেখানে গিয়েও খেলব: শেখ মেহেদী

 

মাহমুদউল্লাহ অবশ্য এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে ৯ রান করে বোল্ড হয়েছেন বিলাল সামির বলে। পরের ওভারেই বিদায় নেন তাওহীদ হৃদয়। ২৮ বলে ২৯ রান করা এই ব্যাটারকে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন জহির খান। 

 

অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ফিরেছেন দ্রুতই। মেহেদী হাসান রানার বলে জহির খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সোহান। শেষ ওভারের প্রথম বলেই ফেরেন খুশদিল শাহ। ফেরার আগে করেন ১৬ বলে ২৪ রান। সেখানেই কার্যত হেরে যায় রংপুর।   

 

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানে থামে রংপুরের ইনিংস। নোয়াখালীর হয়ে ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। জহির খান ২টি এবং বিলাল সামি, মোহাম্মদ নবী ও মেহেদী হাসান রানা নেন ১টি করে উইকেট।

 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। শাহাদত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকার ২ ওভারেই যোগ করেন ২৫ রান। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই দিপুকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। আউট হওয়ার আগে দিপুর ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৪ রান। 

 

আরও পড়ুন: ‘ঘরের মানুষের এমন মন্তব্য দুঃখজনক’—তামিমকে নিয়ে বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে শান্ত

 

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৩ রান যোগ করেন সৌম্য ও হাবিবুর রহমান সোহান। দলীয় ৬৮ রানের মাথায় মুকিম সুফিয়ানের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সোহান। ফেরার আগে ১৬ বলে করেন ৩০ রান। 

 

১১তম ওভারে বল করতে এসে প্রথম দুই বলেই সৌম্য ও নবীকে ফেরান খুশদিল শাহ। সৌম্য ২৭ বলে করেন ৩১ রান, আর নবী আউট হন প্রথম বলেই। 

 

এক প্রান্ত আগলে রেখে ধীরগতিতে ব্যাট করতে থাকেন জাকের আলী অনিক। ৩৭ বল খেলে রান করেছেন মাত্র ৩৮। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজকে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে লিটনের হাতে ধরা পড়েন জাকের। পরের বলেই মেহেদী হাসান রানাকে বোল্ড করেন ফিজ। 

 

শেষ ওভারে পরপর তিন বলে ফেরেন অঙ্কন, জহির ও বিলাল। রংপুরের হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। এছাড়া খুশদিল শাহ ২টি, নাহিদ রানা ও মুকিম নেন ১টি করে উইকেট।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন