টাকার অভাবে থেমে যেতে বসেছে রাফির ক্রিকেট ক্যারিয়ার

১৭ ঘন্টা আগে
‎অর্থনৈতিক সংকটে থমকে গেছে মেধাবী ক্রিকেটার রাফির স্বপ্নের ক্রিকেট যাত্রা। পরিবারের সামর্থ্য ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারের পথে। রংপুর বিভাগীয় টিমসহ ঢাকায় ২য় ও ৩য় বিভাগ ক্রিকেট লিগে সাফল্য অর্জন করলেও ভালো কোচিংয়ের অভাবে ফিকে হয়ে আসছে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন।

‎তবে, সরকারি পৃষ্টপোষকতায় উন্নতমানের প্রশিক্ষণে ১৭ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান ভবিষ্যতে জাতীয় দলের কাণ্ডারি হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।  

 

‎প্রতিটি শট যেন শিল্পীর রং তুলিতে আঁকা ছবি। কাভার ড্রাইভ, স্ট্রেইট ড্রাইভ, অন ড্রাইভসহ প্রতিটি শট খেলছেন নিখুঁতভাবে। কিন্তু সবকিছুই যেন এখন সীমাবদ্ধ মাকড়সার জালে। প্রতিদিন সকালে স্টেডিয়ামে এসে বিকেল পর্যন্ত এভাবেই নেটে অনুশীলন করছেন এই তরুণ ব্যাটার।  

 

‎বলছি, কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে উঠে আসা ক্রিকেটার রাফাত আল রাফির কথা। এরই মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগীয় ক্রিকেটে জেলা টিমের পক্ষে অধিনায়ক হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে জায়গা করে নেন রংপুর বিভাগীয় দলে। সুযোগ মেলে ওয়াইসিএল ইষ্ট জোনে। খেলেছেন ঢাকা ৩য় বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে। রাইজিং স্টার ক্লাবের হয়ে ৩য় সর্বোচ্চ রান এবং দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে মিরপুর বয়েজ ক্লাবের হয়ে ৩৫০ রানসহ রয়েছে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ডও। তারপরও সবকিছুই যেন অমলিন। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে অর্থের অভাবে কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে এভাবেই অনুশীলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে।  

 

আরও পড়ুন: আইপিএল প্রতিষ্ঠাতার ভবিষ্যদ্বাণী–৩ বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে দ্য হান্ড্রেড

 

‎ক্রিকেটার রাফাত আল রাফি বলেন, ‘কুড়িগ্রাম জেলা টিমকে আমি চাম্পিয়ন করেছি, সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ছিলাম। ‎বিভাগীয় দলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছিলাম, ৪১১ রান করেছিলাম। এর আগে আন্ডার-১৯ (অনূর্ধ্ব-১৯) টিমের সিলেকশনে ‎ওয়াইসিএল ইষ্ট জোনের হয়ে খেলি। এখন বিষয়টি হচ্ছে যে, মূল যেটি দরকার সেটি হচ্ছে অনুশীলন। আর কুড়িগ্রামে যে ফ্যাসিলিটি সেটা কখনো সম্ভব না। যতই চেষ্টা করি কুড়িগ্রামে আমাদের অনেক কিছুই নাই। আমার বাবা অনেক চেষ্টা করতেছে এখন আর পারতেছে না। হোক সেটা পারিবারিক কিংবা অর্থনৈতিক, এখন আর পারছে না।’  

 

No description available.কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছেন ক্রিকেটার রাফাত আল রাফি। ছবি: সময় সংবাদ

 

‎এদিকে ক্রিকেট পাগল ছেলে দেশের হয়ে লড়বে এমন স্বপ্ন দেখলেও আরেক ছেলের মেডিকেলে পড়ার খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রায়হান কবির। এ অবস্থায় বিসিবি কিংবা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার আশা করছেন পরিবারসহ ক্রীড়া সংগঠকেরা। 

 

‎ক্রিকেটার রাফাত আল রাফির বাবা রায়হান কবির বলেন, ‘তাকে যদি একটা ভালো একাডেমিতে অন্তত ৬ মাস কোচিং দেয়, তাহলে আমার বিশ্বাস এবং আমার ছেলেরেও বিশ্বাস, সে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলতে পারবে। সরকারসহ বিসিবির কাছে সহায়তার আশা করছি।’ 

 

আরও পড়ুন: ডিপিএলে একই দলে লিটন-মিরাজ, শিরোপার প্রত্যাশা মালিকপক্ষের

 

‎রাফির বর্তমান কোচ নাজমুল হুদা লাকু বলেন, ‘তার যে ডেডিকেশন এবং তার যে ব‍্যাটিং স্টাইল অনেকের থেকে আলাদা। আমরা যদি রাফিকে ধরে রাখতে পারি তাহলে দেশের জন‍্য একজন ভালো প্রডাক্ট পাবো।’ 

 

‎তবে, আবেদন করলে তবেই মিলবে ক্রীড়া শিক্ষাবৃত্তি, এমন উত্তর দিয়ে দ্বায় সারলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা। ‎কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ‎মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ মন্ত্রণালয়ের একটা শিক্ষাবৃত্তি চালু আছে, ক্রীড়া শিক্ষাবৃত্তি। সেখানে আবেদন করলে আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব‍্যবস্থা করবো। এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে আমরা শতভাগ সহযোগিতা করবো।’ 

 

‎তরুণ ক্রিকেটার রাফাত আল রাফি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার গ্রামের রায়হান কবির ও জোসনা পারভীন দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ পেলে হয়ত দেশের ক্রিকেটে নক্ষত্র হতে পারে এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন