মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হওয়া হরমুজ প্রণালীর কাছে কমপক্ষে তিন জাহাজে হামলার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়ায়, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
তবে দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি দাড়িয়েছে ৭৯ ডলার ৪৮ সেন্টে। সপ্তাহ ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। এদিকে সৌদি আরামকো রাস তানুরায় তাদের প্রধান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি পৌঁছাতে পারে ১০০ ডলারে!
ইরানের হামলার পর রাস লাফান কমপ্লেক্সে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করেছে কাতার এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, একটি ড্রোন কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংককে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। রাস লাফানের একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানের ৮২ শতাংশ ক্রেতাই এশিয়ার দেশগুলো।
এর পরেই ইউরোপীয় বাজারে এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ গ্যাস কাতার সরবরাহ করে থাকে এবং এশীয় ও ইউরোপীয় বাজারের জ্বালানির চাহিদা ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি রেভ্যলেশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। তারা প্রণালি থেকে চলাচল করা সব ধরনের নৌযানে হামলার হুমকি দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে এলএনজি পরিবহনে জাহাজভাড়া প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এলএনজি পরিবহনের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা স্পার্ক কমোডিটিসের মতে, আটলান্টিকের দৈনিক ভাড়া ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৬১,৫০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের হার আগের দিনের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ডলারে।
হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সংঘাত দীর্ঘ স্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার হতে পারে বলে সর্তক করেছেন বিশ্লেষকরা।
]]>
২১ ঘন্টা আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·