‘জামায়াতের সহযোগিতা না পেয়ে নাখোশ শরিকরা’

২ সপ্তাহ আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।


জামায়াতের সহযোগিতা না পেয়ে নাখোশ শরিকরা- সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি
 

ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামীর ‘পূর্ণ সমর্থন’ না পেয়ে নাখোশ ১১ দলের শরিকরা। এ দলগুলোর মধ্যে অভিযোগ, ছেড়ে দেওয়া চারটি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা থেকে যাওয়ায় শরিকরা নির্বাচন থেকে প্রায় ছিটকে গেছেন। ‘আর্থিক সহযোগিতা’ না পাওয়ায় এনসিপির অধিকাংশ প্রার্থী ভোটের মাঠে হাবুডুবু খাচ্ছেন। আবার আসন ছাড়লেও প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের তুলনায় জামায়াত নেতাকর্মীরা না নামায় শরিকদের প্রার্থীরা প্রচারে পিছিয়ে রয়েছেন।


এ দলগুলোর ভাষ্য, জোট গঠনের সময় জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, শরিকদের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর সমান সহযোগিতা দেওয়া হবে। এই শর্তে জোট হলেও মাঠে তা পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও জামায়াত এই অভিযোগ নাকচ করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম সমকালকে বলেছেন, শরিকদের সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা শরিক প্রার্থীদের পক্ষে রয়েছেন।


তবে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য সমকালকে বলেছেন, মূল অভিযোগ আর্থিক সহযোগিতা না করা। অন্য দলের প্রার্থীরা টাকা চেয়ে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু জামায়াতকে দলীয় প্রার্থীদের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই চাইলেও সহযোগিতা করা যাচ্ছে না।
টাকার সংকটে এনসিপি


এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য সমকালকে বলেছেন, গুজব রটেছে, জামায়াত প্রতি আসনে দেড় কোটি টাকা করে দিচ্ছে শাপলা কলির প্রার্থীদের। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এনসিপির কাউকে এক টাকাও দেওয়া হয়নি। কারও অনুদান চাইলে বলা হচ্ছে, জামায়াত টাকা দিয়েছে আর কেন সহায়তা দরকার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ পরিস্থিতিতে অন্তত ১৮টি আসনের প্রার্থীরা ঠিকমতো প্রচার চালাতে পারছেন না। নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী দিতে পারছেন না।


এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, কয়েক দিন পরপর দলীয় প্রার্থীদের এক-দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এটা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। আবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মাঠে দিনে ১০ লাখ টাকা খরচ করছে। ফলে ভোটের মাঠে টেকা যাচ্ছে না।

 



নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় প্রশাসন- দৈনিক ইত্তেফাকের শেষ পাতার খবর এটি
 

বহুল প্রতিক্ষীত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এই নির্বাচনকে ঘিরে অফিস-আদালত থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারঘাট ও চায়ের দোকানে চলছে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা। চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। এই ভোটের রেশ পড়েছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়েও। নির্বাচনকালীন সময়ে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুধু রুটিন কাজ করে সময় পার করছেন। রুটিন কাজের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে ভোট নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে দেখা যায় তাদের। আলোচনার বিষয়বস্তু নতুন সরকার। সবাই নতুন সরকারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। গত কয়েক দিন সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে।


গত কয়েক দিন সচিবালয়ের বেশ কয়েকটি দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, সরকারি দপ্তরগুলোতে এখন আলোচনার প্রধান বিষয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট আর নতুন সরকার। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে আসা ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। তাদের আলোচনায় ওঠে আসছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারা ক্ষমতায় আসছেন। গণভোটের ফলাফল কি হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিবর্তিত নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে। গত ১১ ডিসেম্বর তপশিল ঘোষণার পর থেকে নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। মন্ত্রণালয়গুলো শুধু কিছু রুটিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য মন্ত্রণালয়গুলোতে তেমন ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। আগের মতো সরগরম অবস্থা নেই। তপশিলের পর খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রদবদল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দর্শনার্থী বা তদবির নিয়ে কোনো ভিড় নেই। আবার বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় ভিড় কমেছে প্রশাসন পাড়ায়। এই নীরব পরিস্থিতিতে নিয়মিত কাজের বাইরে বাড়তি চাপ না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজের চেয়ে নির্বাচনের খোঁজ বেশি রাখছেন। নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছেন তারা। কর্মকর্তারা বলছেন— সচিবালয় এখন অনেকটাই ‘প্রাণহীন’।



বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট মোকাবেলায় সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই রাজনৈতিক দলগুলোর- দৈনিক বণিকবার্তার খবর এটি
 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে জনগণকে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়েও বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো বড় দলগুলো তুলে ধরছে প্রতিশ্রুতি। কিন্তু দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি এ জ্বালানি খাতের উন্নয়নে কীভাবে আর্থিক চাপ কমানো হবে, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমিয়ে নাগরিক সুবিধা তৈরি করা হবে, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা তৈরি করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না।


উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আর্থিক ঘাটতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বেশি। এ ঘাটতি কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিকল্প দেখছে না বিপিডিবি। এজন্য নির্বাচনের পরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত ২৯ জানুয়ারি কমিশনের ফার্নেস অয়েলের দাম পুনর্নির্ধারণ নিয়ে এক গণশুনানিতে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে পাইকারি নাকি খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। আর্থিকভাবে ধুঁকতে থাকা বিদ্যুৎ খাতের এ পরিস্থিতির বড় কারণ মূলত উচ্চমূল্যের গ্যাস ও জ্বালানি তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এ আমদানির ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক বিপর্যস্ততা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে চাপে রেখেছে। এ চাপ থেকে মুক্ত হতে বিগত দেড় দশকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হলেও এ খাতের সচ্ছলতা ফেরেনি। বরং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় দেশের জ্বালানি খাত বড় আকারে প্রভাবিত হয়েছে। এলএনজি আমদানিতে অর্থ সংকট, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ কমে যাওয়াসহ সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি কিনতে পারছেন না ভোক্তারা। সামনের দিনগুলোতে পরাশক্তি দেশগুলোর হস্তক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

 


সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: স্বেচ্ছাচারিতার বেড়াজালে ভালো গ্রাহকও খেলাপি! যুগান্তরের প্রথমপাতার খবর এটি
 


ঋণ সমন্বয় রীতিনীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)। এমনকি আমানত সমন্বয় করে ঋণ পরিশোধ করতে চান-এমন স্বনামধন্য গ্রাহকও হচ্ছেন চরম হয়রানির শিকার। যেখানে ঋণ পরিশোধ হওয়ার পর ‘থ্যাংকস লেটার’ পাওয়ার কথা, সেখানে উলটো সমন্বয় না করে খেলাপি করা হয়েছে। এ ধরনের অনেক ঘটনায় ব্যাংকটিতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক গ্রাহক অসন্তোষ। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা পড়েছে ভুক্তভোগীদের বেশকিছু অভিযোগও।

প্রাপ্ত অভিযোগে দেখা যায়, সম্প্রতি দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাকে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই ঋণখেলাপি করে দেয় এসআইবিএল। অথচ এ ঘটনার এক মাস আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহক স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যাংকের সঙ্গে দায়দেনা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেন। তিনি লিখিতভাবে ব্যাংকটিকে জানান, ব্যাংকটিতে তার ঋণের পরিমাণ ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যাংকটিতে এফডিআর ও মুনাফাসহ জমা আছে ৫ কোটি ৫২ টাকা। এখন এই আমানতের সঙ্গে ঋণ সমন্বয় করা হলে অবশিষ্ট ঋণের পরিমাণ থাকে ৯৪ লাখ টাকা। গ্রাহক অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করে দায়দেনা থেকে একেবারে বেরিয়ে যেতে চান। এ বিষয়ে গ্রাহককেও জানিয়ে দেওয়া হয় যে-বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কাজ করছে। অথচ হঠাৎ করে গত সপ্তাহে ব্যাংক এই গ্রাহককে খেলাপি হিসাবে তালিকাভুক্ত করে। এ ঘটনায় বিস্মিত ও চরম সংক্ষুব্ধ হন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক। সূত্রমতে, তিনি এখন বিষয়টি নিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসআইবিএলের সাবেক এমডি শফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘কেউ টাকা দিতে চায় আর ব্যাংক সে টাকা না নিয়ে উলটো খেলাপি করে-এটা জীবনে প্রথম শুনলাম। আসলে এরা ব্যাংকিংয়ের ‘ব’ও বোঝে না। আমি হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই ঋণ সমন্বয় করে গ্রাহককে থ্যাংকস লেটার পাঠাতাম।’

তিনি বলেন, এদের (বর্তমান প্রশাসকের) বাণিজ্যিক ব্যাংক চালানোর কোনো যোগ্যতাই নেই। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের কোনো মুনাফা না দেওয়ারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কিছু ব্যাংকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ভালো গ্রাহকও খেলাপি হয়ে যান। বিষয়টিকে কেস স্টাডি হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত করা উচিত।

সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও আলোচিত এই ঋণখেলাপি করার ঘটনায় ব্যাপক হইচই হওয়ার পর গ্রাহককে এফডিআরের ৪ কোটি টাকা (প্রিন্সিপাল) ফেরত দিয়েছে এসআইবিএল, যা পরে ব্যাংকের ঋণ অ্যাকাউন্টে জমা দিলে খেলাপি স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু সিআইবির ইতিহাসে ঠিকই লেখা থাকবে খেলাপি। মূল এফডিআর ফেরত দিলেও এখনো ব্লক অ্যাকাউন্টে আটকে রেখেছে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার মুনাফা। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সরাসরি নির্দেশনায় ব্যাংকগুলো এ ধরনের অনৈতিক কাজ করছে, যা স্বয়ং ব্যাংকাররাও সমর্থন করছেন না।

 

পাসপোর্ট পেলো ১৭০০০ রোহিঙ্গা, প্রিন্টে আরও ৫১ হাজার- মানবজমিনের প্রথমপাতার খবর এটি
 


সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে অবস্থানরত ১৭ হাজার ৩৯৪ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া আরও ৫১ হাজার ৬৯৮ জনকে পাসপোর্ট দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এদের মধ্যে ২০ হাজার ৯৯০ জনের পাসপোর্ট ইতিমধ্যে প্রিন্টে রয়েছে। এখন পর্যন্ত বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হয়েছে আরও ২১ হাজার ৬৪৮ জনের। অন্যদিকে ফি বাকি থাকায় ১৪১ জনের পাসপোর্ট প্রিন্ট প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকারের একটি সূত্র বলছে, মূলত সৌদি সরকারের কূটনৈতিক চাপে আওয়ামী লীগের সময়ই রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। পরে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সৌদি দূতাবাস ইস্যুটি নিয়ে ফের সক্রিয় হয়। সৌদি সরকারের তরফ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। পরে অনেকটা বাধ্য ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে পাসপোর্ট দেয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। প্রথম দফায় পর্যায়ক্রমে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ১২ই জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ হাজার রোহিঙ্গার হাতে পাসপোর্ট হ্যান্ডওভার করা হয়। ইতিমধ্যে হ্যান্ডওভার হওয়া পাসপোর্টের সব তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করেছে সরকার।

 

সূত্র বলছে, রোহিঙ্গারা একটি বিশেষ ক্যাটাগরির পাসপোর্ট পেয়েছেন। তবে সেটা কি ধরনের পাসপোর্ট তা ওই সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি। পাসপোর্টের সঙ্গে প্রত্যেকে একটি করে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেয়া হয়। তা দিয়ে সৌদি আরব থেকে তারা অন্য দেশেও ভ্রমণ করতে পারবেন।
এদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সৌদি সরকারের অনুরোধে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেয়া হলেও তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে না। উপদেষ্টার এই বক্তব্যে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নাগরিকত্ব ছাড়া পাসপোর্ট পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা? জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ ছাড়া কোন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়া হলো- এ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। কি ডকুমেন্টের ভিত্তিতে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পেলো সরকারের তরফ থেকে তাও খোলাসা করা হয়নি। 
 


৪৬ আসনে বিদ্রোহীদের চাপে বিএনপি ও মিত্ররা- দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি


সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৯টি আসনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলটির নেতারা স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৬টি আসনে শক্ত অবস্থানে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তাঁদের কারণে ভোটের মাঠে বাড়তি চাপে পড়েছেন বিএনপির ধানের শীষ বা সমঝোতার প্রার্থীরা।


স্থানীয় নেতা-কর্মী ও ভোটাররা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে অনেক আসনে বিদ্রোহীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি অনেক আসনে বিএনপির ভোট কাটাকাটির কারণে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।


১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আছেন ২৯১টি আসনে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দলগুলোকে আটটি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এখানে বিএনপি–সমর্থিত অন্য দলের প্রার্থী আছেন। আর একটি আসনে (কুমিল্লা-৪) প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিএনপির দলীয় প্রার্থী নেই।


শুরুতে ১১৭ আসনে বিএনপির ১৯০ জনের মতো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে বিএনপি অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারও কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। অনেকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনুরোধে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৭৯টি আসনে অন্তত ৯২ জন বিএনপির নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। কোনো কোনো আসনে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। আবার কোথাও কোথাও এক ব্যক্তি একাধিক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় অনেককে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় স্থানীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবু বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি। দলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামছেন না।


বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা। নির্বাচনের ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের কারণে বিএনপির কতটি আসন হাতছাড়া হয়, সেটি দেখার বিষয়।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন