জাতিসংঘ কি কোনো দেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়, নিয়মে কী আছে?

১ সপ্তাহে আগে
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সদর দফতরে সময় সংবাদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক না পাঠালেও প্রয়োজনে কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে।

খ্রিষ্টীয় বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটি শেষে সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় প্রেস ব্রিফিং। ব্রিফিংয়ে উঠে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলমান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

 

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘আমরা তা করি না, জাতিসংঘ নিজেও সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া পর্যবেক্ষক পাঠায় না।’

 

যেসব পদ্ধতিতে জাতিসংঘ নির্বাচনে সহায়তা করে থাকে

 

কোনো দেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের ভূমিকা কী হতে পারে বা কীভাবে হবে তা নিয়ে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একটি নীতিমালা তৈরি করে জাতিসংঘ। ‘ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্ট: সুপারভিশন, অবজারভেশন, প্যানেল অ্যান্ড সার্টিফিকেশন’ শিরোনামের ওই দলিলে নির্বাচনে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে।

 

জাতিসংঘের নির্বাচনে সহায়তা সংক্রান্ত ওই দলিলে বলা হয়েছে, কোনো দেশের নির্বাচন জাতিসংঘ শুধুমাত্র তখনি তত্ত্বাবধান করতে যাবে যখন ওই দেশ সহায়তার অনুরোধ করবে অথবা নিরাপত্তা পরিষদে বা সাধারণ পরিষদে এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব পাস হয়।

 

কোনো দেশের নির্বাচনে কয়েকভাবে জাতিসংঘ সহায়তা করতে পারে। কখনও কখনও এসব পদ্ধতি এক সাথেই কার্যকর হতে পারে, আবার আলাদা আলাদাও হতে পারে। এসব পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে: এক. জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের আয়োজন, দুই. নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো, তিন. বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ ও নজরদারি করা এবং চার. নির্বাচন সম্পর্কে স্বীকৃতি দেয়া বা না দেয়া।

 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কী বললো জাতিসংঘ

 

এর বাইরে কারিগরি সহায়তা দেয়া, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাজে সহায়তার মতো কাজও জাতিসংঘ করে থাকে। এসব লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন, শান্তি রক্ষা এবং বিশেষ রাজনৈতিক মিশনও পরিচালিত হতে পারে।

 

কিন্তু চাইলেই জাতিসংঘ এসব করতে পারবে না। সেজন্য অবশ্যই নিরাপত্তা পরিষদ বা সাধারণ পরিষদের ম্যান্ডেট লাগবে। সেই সঙ্গে ওই দেশের সমর্থনও থাকতে হবে। 

 

জাতিসংঘের দলিলে বলা হয়েছে, ‘কোন দেশের রাজনৈতিক জটিলতার কারণে সেদেশের নির্বাচন আয়োজনে সরকার জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেই হবে না, সেজন্য অবশ্যই ওই দেশে জাতিসংঘের এরকম দায়িত্ব পালনে জনগণের সমর্থন থাকতে হবে।’

 

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, যদিও একসময়ে নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ করার মতো মূল দায়িত্বগুলো পালন করতো জাতিসংঘ, কিন্তু বর্তমানে এটা খুব কমই করা হয়। বরং নির্বাচন আয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই বিশেষ সহায়তা করা হয়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন