ছেলেকে চুরির অপবাদ ও স্বামীকে মারধর, অপমানে নিজের প্রাণ নিলেন গৃহবধূ

৪ সপ্তাহ আগে
ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে স্বামীকে বেঁধে গণপিটুনি দেয়ার অপমান সইতে না পেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম জোছনা বেগম (৫২)। তিনি নিজ বসতঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

 

স্থানীয়রা জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নায়েব আলীর বোনের বাড়ির তালাবদ্ধ গোয়ালঘরে শব্দ হয়। এ সময় বাড়ির লোকজন ঘুম থেকে উঠলে গরু চুরির সন্দেহ তৈরি হয়। খবর পেয়ে ইউপি সদস্য নায়েব আলী বোনের বাড়িতে আসেন এবং গরু চুরির সন্দেহে পাশের বাড়ির যুবক সুজনকে ধরতে যান।

 

এ সময় সুজন ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে তার বাবা-মা বাধা দেন। একপর্যায়ে ভয়ে সুজন পালিয়ে যান। ছেলে পালিয়ে যাওয়ায় সুজনের মা জোছনা বেগম এবং বাবা সুরুজ আলী ও সোহেল রানাকে ধরে নায়েব আলীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে আরও দুজনকে ধরে এনে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে জোছনা বেগমকেও মারধর করা হয়।

 

স্বামীকে বেঁধে মারধর ও ছেলেকে চুরির অপবাদ দেয়ার বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে জোছনা বেগম বাড়িতে ফিরে গলায় ফাঁস দেন। এদিকে ইউপি সদস্য নায়েব আলী সুরুজ আলীসহ তিনজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ আটকে রাখাদের উদ্ধার করে এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

আরও পড়ুন: জামাই-শ্বশুর পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, মরদেহ দেখে প্রতিবেশীর মৃত্যু

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে নাযেব আলী তার বোনের বাড়িতে গরু চুরির কথা বলে সুরুজ আলীর বাড়িতে এসে তার ছেলে সুজনকে নিয়ে যেতে চান। জোরপূর্বক নিয়ে আসতে চাইলে সুজন পালিয়ে যান। পরে সুরুজ আলী, স্ত্রী জোছনা ও সোহেল রানাকে নায়েবের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দেয়া হয়। স্বামীকে পিটুনি থেকে বাঁচাতে গেলে জোছনাকেও মারধর করা হয়। এই অপমান সইতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

 

গ্রাম্য মাতব্বর আজিজুল হক জানান, ‘এলাকায় গরু চুরি বেড়েছে। রাতে গরু চুরি করতে আসলে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। পরে সন্দেহভাজনদের ধরে এনে মারধর করা হয়।’

 

অন্যদিকে নায়েব আলীর বোন কামরুন নাহার বলেন, ‘রাতে গোয়ালঘরে শব্দ পেয়ে কাউকে না পেয়ে লোকজন চোর সন্দেহে সুজনকে ধরতে যায়। তাকে না পেয়ে অন্যদের ধরে নিয়ে আসে।’

 

জামালপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুজ্জামান ফাহিম বলেন, ‘দুপুর ১২টায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। আমরা বিষয়টি দেখছি। বিভিন্নভাবে তথ্য নেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।’ তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন