ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ: ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আহত ১১ জন

১ সপ্তাহে আগে
রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় ডাকসুর দুই নেতা, সাংবাদিকসহ আহত ১১জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সবাই চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।

 

আহতরা হলেন- ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের (২৩), সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক (২৩), তানজিম (২১), সিফাত (২০), লিটন (২১), খালিদ (২৫), আলভী (২২), দেবাশীষ (২৮), আফরোজা (৩০), জিসান (২৬) ও নবাব (২২)। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স’ (এআই) দিয়ে তৈরি একটি আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে। তিনি ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

এই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জাইমা রহমানকে কটূক্তির অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করতে যান তারা।

 

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দাবি করেন, তার নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে তিনি ও তার সহযোগীরা থানায় যান।

 

আরও পড়ুন: ফেসবুক পোস্ট নিয়ে শাহবাগে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ৮

 

থানায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে থানার ভেতর ঢুকে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়ের থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

আহতদের হাসপাতালে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে আসেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফেক স্কিনসর্ট নিয়ে আমাদের ডাকসুর নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। মামুন জীবনের নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানায় যান জিডি করতে। যেখানে মানুষের নিরাপত্তা দেবার কথা সেই থানাতেই আমাদের ভাইদের ওপর হামলা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক ভাইদের ওপরও হামলা হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। আমরা প্রশাসনসহ ছাত্রদলের সবার সঙ্গে কথা বলব। আজ যারা আমার ভাইদের ওপর নেক্কারজনক হামলা করেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন