চুয়াডাঙ্গা বিসিকে কারখানা নির্মাণের সঙ্গে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ

১ সপ্তাহে আগে
দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা বিসিক শিল্পনগরীর কার্যক্রম। এখানে এরই মধ্যে শিল্প কারখানা নির্মাণ ও মালামাল উৎপাদন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্লট বিক্রিও বেড়েছে।

বিগত ২০২১ সালের জুন মাসে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামে ২৫ দশমিক ১২ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় এই বিসিক শিল্পনগরী। ৪১ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শিল্পনগরীতে রয়েছে ৫ ধরনের মোট ৭৮টি প্লট। ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম ধাপে প্লট বরাদ্দ শুরু হয়। এর মধ্যে ৩৬ জন উদ্যোক্তা শিল্পায়নের জন্য ৪৩টি প্লট কিনেছেন। প্রতি শতক প্লটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

 

বিসিক শিল্পনগরীতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রশস্ত পাকা রাস্তা, পানির পাইপলাইন ও পাম্প, বিদ্যুৎ সংযোগ, ডাম্পিং ইয়ার্ড, পুকুর, অফিস এবং কোয়ার্টারসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। এখানে কৃষি যন্ত্রপাতি, সার, কীটনাশক, স্টিল মিল, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

 

এক সময় এই বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট কিনতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম ছিল। তবে এখন সেখানে একের পর এক শিল্পকারখানা নির্মাণ চলছে। ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে এবং কিছু কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ফলে এখন উদ্যোক্তারা তাদের পছন্দের প্লট কেনায় আগ্রহী হচ্ছেন। ৭৮টি প্লটের মধ্যে এরই মধ্যে ৪৩টি বিক্রি হয়েছে, বাকি ৩৫টি প্লট অবিক্রিত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব প্লট বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এতে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থসামাজিক অবস্থায় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। স্থানীয় কয়েক হাজার বেকার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই শিল্পাঞ্চল এবং বিদেশনির্ভর আমদানিও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: কেন বিসিকের নতুন শিল্পনগরী-পার্ক বিমুখ হচ্ছেন উদ্যোক্তারা?

 

উদ্যোক্তারা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্বল্প সুদে সহজ ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা পেলে তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। কৃষাণ অ্যাগ্রো কেমিক্যালসের মালিক ফেরদৌস জানান, এখানকার পরিবেশ অনেক ভালো। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জমির দামও তুলনামূলক কম। ব্যাংক থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

 

বিসিক শিল্প এলাকার প্লট ক্রেতা ও সুইট এগ্রোভেটের মালিক মনজুরুল হুদা বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠান করতে পারলে খরচ অন্য জায়গার তুলনায় অনেক কম হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। এতে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং বিদেশি আমদানিনির্ভরতা কমবে।

 

বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বাকি প্লট দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাবে এবং পুরো উৎপাদন কার্যক্রম চালু হবে। চুয়াডাঙ্গা বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক এ বি এম আনিসুজ্জামান বলেন, প্লট বিক্রিতে আমরা আশাবাদী। বর্তমানে চাহিদা অনেক বেশি। কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

 

এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। দুই বছরের মধ্যে বাকি ৩৫টি প্লটও বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি। উদ্যোক্তাদের সুবিধা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন