চুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিন বিড়ম্বনা শেষ হবে কবে?

২ দিন আগে
সকাল ১০ টা ৪০ মিনিট। মাত্র ২০ মিনিটের বিরতিতে ক্যান্টিনে উপচেপড়া ভিড়। খাবার কিনতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৩নং ক্যান্টিনে এমন চিত্র প্রতিদিন সকালের। খাবার কিনতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও অনেক শিক্ষার্থীকে না খেয়েই ফিরতে হচ্ছে ক্লাসে। আবার কেউ কেউ খাবার পেলেও বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়েই খেতে বাধ্য হচ্ছেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে একাডেমিক এলাকায় চালু রয়েছে ছোট একটি মাত্র ক্যান্টিন। তবে প্রত্যেক হলে ক্যান্টিন থাকলেও একাডেমিক এলাকা থেকে তুলনামূলক দূরে হওয়ায় স্বল্প সময়ের বিরতির কারণে সেখানে যান না শিক্ষার্থীরা। ফলে সকালের বিরতিতে এই একটি মাত্র ক্যান্টিনের পক্ষে শিক্ষার্থীদের খাবারের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 


চুয়েটের অন্য ২ ক্যান্টিন (ক্যান্টিন ১ ও ২) প্রায় দুই বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ওই ক্যান্টিন এলাকা ভেঙে সেখানে উদ্যান নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ভাঙায় হয়নি পুরনো স্থাপনা। এই দুই ক্যান্টিন বন্ধেই সংকট তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
 

এ বিষয়ে পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুদ্র বণিক জয় বলেন, ‘এই ক্যান্টিন দুটি চুয়েটের ঐতিহ্যবাহী ক্যান্টিন ছিল। ক্যান্টিন দুটি বন্ধের ফলে চাপ বেড়েছে তিন নম্বর ক্যান্টিন এ। বেশিরভাগ সময় খাবার কিনতে কিনতেই বিরতি শেষ হয়ে যায়। ২০ মিনিটের বিরতিতে এত শিক্ষার্থীর খাবার জোগান দেওয়াও একটি ক্যান্টিনের পক্ষে সম্ভব নয়। হয় আমাদের ১ ও ২ নং ক্যান্টিন খুলে দেওয়া হোক অথবা ৩ নং ক্যান্টিন বর্ধিত করা হোক।’

আরও পড়ুন: ‘মবের ভয়ে’ পালাচ্ছিলেন চবি শিক্ষক, ধরে প্রক্টর অফিসে দিলো চাকসু নেতারা


বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ক্যাফেটেরিয়া থাকলেও সেখানে যেতে অনাগ্রহী বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ খাবারের উচ্চ মূল্য এবং একাডেমিক এলাকা থেকে তুলনামুলক দূরে হওয়ায় টিএসসি ক্যাফেটেরিয়া কার্যকর বিকল্প নয়। পাশাপাশি ১ ও ২ নম্বর ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
 

যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুলকারনাইন মিহাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টিএসসি ক্যাফেটেরিয়াকে একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতেই এই দুইটি ক্যান্টিন বন্ধ করা হয়েছে। ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের উচ্চমূল্য, নিম্নমান নিয়ে বারবার প্রশাসনের কাছে যাওয়া হলেও তারা উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।  অপরদিকে ১ ও ২ নং ক্যান্টিন এর খাবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ছিল। তাই আমরা সাধারণ শিক্ষাথীরা চাই ক্যান্টিন দুটি যেন পুনরায় আমাদের জন্য চালু করে দেয়।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ৩ নম্বর ক্যান্টিনটি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং বিরতির সময়ও সীমিত। এটির বিকল্প ছিল একাডেমিক ভবন ৩ এর নিচ তলার ক্যান্টিনটি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা অভিযোগ দিয়েছিল যে ছাত্ররা ওখানে এতো হৈচৈ করে যে ক্লাস করানো যায় না, তাই বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বন্ধ দুই ক্যান্টিন খুলে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে বাকি ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন