চাঁদপুরে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক বরখাস্ত

১ সপ্তাহে আগে
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রাড়ীকান্দি দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায়। 

 

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি। সেখানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তিনি মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়াকে সাময়িকভাবে অব্যাহতির নির্দেশ দেন। পরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউএনও ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

 

আরও পড়ুন: ইউএনওর স্বাক্ষর জালিয়াতি, শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মচারী বরখাস্ত

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মামুন মিয়া রাড়ীকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

 

মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, মো. মামুন মিয়া প্রায় দুই-তিন বছর আগে মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। অনেক সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করতেন। সব সময় তার ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হতো। বিষয়টি একাধিকবার অন্য শিক্ষকদের কাছে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা ইউএনও’র কাছে অভিযোগ জানায়। তিনি সরেজমিনে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করায় শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

 

এ ঘটনায় মাদ্রাসার একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য মাদ্রাসায় পাঠাই। কিন্তু যদি শিক্ষকরাই এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে সন্তানের নিরাপত্তা কোথায় থাকবে?’

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভয় ও লজ্জার কারণে অনেক সময় এমন ঘটনা বলতে পারে না। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় আমরা ইউএনও মহোদয়ের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। তবে আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

 

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়। এতে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন