চবিতে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের অভিযোগ, কী বলছেন হল প্রভোস্ট?

১ সপ্তাহে আগে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের আগেই জোরপূর্বক হল ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে চবি শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) শাখা দফতর সম্পাদক আবু হাসনাত মো. রুকনুদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।

 

ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় আসন বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব ও আবাসিক মর্যাদা বহাল থাকে। কিন্তু সেই নীতিমালা অগ্রাহ্য করে শুধু ভাইভা বা পরীক্ষা শেষ হওয়ার কারণ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত, অমানবিক এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগের শামিল।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নীতিমালার ২০(ঙ) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, রেজাল্ট প্রকাশের পরেই কেবল আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। সেখানে জোরপূর্বক উচ্ছেদের কোনো বিধান নেই। তবুও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ‘আইন’ হিসেবে চাপিয়ে দেয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, আবাসন ও ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: চবিতে গবেষণা, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার

 

হল ছাড়তে বাধ্য হওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আপেল মাহমুদ বলেন, প্রভোস্ট স্যার অন্যের মতামত বা যুক্তি গ্রহণে একেবারেই অনাগ্রহী। তিনি যা ঠিক মনে করেন সেটাই বাস্তবায়ন করেন, এতে কার ক্ষতি হলো বা কার উপকার হলো-সে বিষয়ে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আমাদের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই হল ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে, যা কতটা হতাশাজনক তা কেবল ভুক্তভোগীরাই উপলব্ধি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত আমাদের জোরপূর্বক হল ত্যাগ করতে হয়েছে।

 

এ বিষয়ে এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাছলিম উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২০(ঙ) ধারা যেমন প্রযোজ্য, তেমনি ২০(গ) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে যে পরীক্ষা পর্যন্তই আসন বহাল থাকে। পাশাপাশি ২৪ নম্বর ধারার সংশ্লিষ্ট কলামে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের তাগিদ দিতে নোটিশ দিতে পারবেন। সে অনুযায়ীই নোটিশ দেয়া হয়েছে; কাউকে জোর করে বের করে দেয়া হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা থাকলে কথা বলতে পারত। প্রভোস্ট হিসেবে সবার রুমে রুমে গিয়ে জানানো সম্ভব নয় বলেই তাগিদ দেয়ার উদ্দেশ্যে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

 

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এ প্রসঙ্গে আমরা হল সংসদ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই আমরা আমাদের বিবৃতি প্রকাশ করেছি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন