গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল:
বিচারহীনতার ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন ইন্তিফাদা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু তাসমিয়া আহমেদ রফিক। বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আসিফ আদনান, দৈনিক আমার দেশের সিনিয়র সাংবাদিক আবু সুফিয়ান, অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফেরদৌস আজিজ, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল।
এ সময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে গুম একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ট্রমা। গুম কমিশনের তথ্যমতে ১ হাজার ৭৭২টি কেস নথিভুক্ত হলেও প্রকৃত সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়নের আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হয়েছে, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে। গুম অধ্যাদেশ বাতিলের যে ব্যাখ্যা সরকারের তরফ থেকে দেয়া হচ্ছে তা অযৌক্তিক, উদ্বেগজনক এবং সন্দেহজনক।
আরও পড়ুন: অধ্যাদেশ বাতিলের আসল উদ্দেশ্য ২০৩০ সালের নির্বাচন: সারোয়ার তুষার
বক্তারা আরও বলেন, সরকার গুম করবে না এমন দাবির ওপর জনগণের আস্থা নেই এবং গুমের মতো রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট অপরাধকে সাধারণ আইন বা আইসিটির আওতায় বিচার করাও বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে ভুক্তভোগীদের বিচারপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশ এরইমধ্যে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে গুমকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
ইন্তিফাদা বাংলাদেশের যে ৫ দাবি
- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ অবিলম্বে পুনর্বহাল বা শক্তিশালী আকারে প্রণয়ন করতে হবে।
- নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তির অবস্থান পরিবারকে জানানো বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং গ্রেফতারের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবারকে অব্যাহিত ও আদালতে হাজির করা নিশ্চিত করতে হবে।
- আয়নাঘর সংস্কৃতি বন্ধে সব গ্রেফতারে অফিসিয়াল পরিচয়, যানবাহন ও বডিক্যাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
- অভিযোগ ছাড়া অনির্দিষ্টকালের আটক রাখার নিবর্তনমূলক বিশেষ ক্ষমতা আইন বিলোপ করতে হবে।
- নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে।

১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·