বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বার দুপুর আড়াইটার দিকে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগ ও ঢাকা থেকে আসা একটি বিশেষজ্ঞ দল ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ ব্যবহার করে বাঘটিকে অচেতন করে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাঘটিকে লোহার খাঁচায় ভরে লোকালয় দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বিপত্তি ঘটে।
মোংলা উপজেলার জয়মনি গ্রামের বৈরাগী বাড়ির কাছে কয়েকশ মানুষ বাঘটিকে একনজর দেখতে এবং মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে ভিড় জমায়। এসময় বন বিভাগের গাড়ি আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ভিড় সামলাতে গিয়ে আহত হন ভিটিআরটি সদস্য সুজা বয়াতি। তার মাথায় ৬টি সেলাই দিতে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াইল্ড টিমের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার জানান, রাস্তা ফাঁকা করে বাঘটিকে দ্রুত পার করে দেওয়ার চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয়রা সুজার ওপর হামলা করে।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, বাঘটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক নারী বাঘ। হরিণ ধরার ছিটা ফাঁদে আটকে থাকায় বাঘটির সামনের বাম পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারের পর বাঘটিকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা বাঘ উদ্ধার, নেয়া হচ্ছে খুলনায়
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন থাকায় এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছবি তোলার হুড়োহুড়িতে উদ্ধার কাজ বিলম্বিত হয়েছে। এমনকি আমাদের কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা শিকারি দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সচেতন না হলে হরিণ শিকার এবং বন্যপ্রাণী রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।
উৎসুক জনতার চাপের মুখে বন বিভাগ মোংলা শহর এড়িয়ে বিকল্প পথে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ হয়ে বাঘটিকে খুলনার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসতে সময় লাগায় উদ্ধার কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হলেও বাঘটিকে শেষ পর্যন্ত মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

১ সপ্তাহে আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·