গাজায় ৩৭টি আর্ন্তজাতিক ত্রাণ সংস্থার কার্যকম বন্ধের পরিকল্পনা ইসরাইলের

২ সপ্তাহ আগে
গাজায় মানবিক সহায়তা দেয়া ৩৭টি আর্ন্তজাতিক সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ইসরাইল। সংস্থাগুলোতে কর্মরত ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে তেল আবিব। শর্ত না মানলে ২০২৬ সাল থেকে গাজায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ইসরাইলি এমন সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সম্প্রতি আঘাত হানা ঝড়ের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। অনেক স্থাপনা পুরোপুরি বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবকাঠামো বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি আশ্রয় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

 

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। অস্থায়ী তাঁবুতে থাকা মানুষের ৯০ শতাংশের বেশি তাঁবু হয় ঝড়ে উড়ে গেছে, নয়তো পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার রাত কাটাচ্ছে তীব্র ঠান্ডায়। বৃষ্টি হলেই তাঁবুর ভেতরে পানি ঢুকে পড়ছে, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

 

এই সংকটের মধ্যে গাজায় মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কাজ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এম.এস.এফসহ অন্তত ৩৭টি আর্ন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম স্থগিতের পরিলকল্পনা করেছে ইসরাইল।

 

আরও পড়ুন: ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ বর্জনের ঘোষণা নেতানিয়াহু সরকারের

 

সংস্থাগুলোতে কর্মরত ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। শর্ত না মানলে ২০২৬ সাল থেকে গাজায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে তেল আবিব। সহায়তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে উপত্যকার হাজার হাজার মানুষ জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে।

 

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, সহায়তা বন্ধ হলে গাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তাদের মতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে ত্রাণকাজের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।

 

এমন পরিস্থিতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় প্রশাসনিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, সব বিষয়েই জটিলতা রয়ে গেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, যা মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করছে।

 

আরও পড়ুন: ইয়েমেন থেকে অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন