গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই থেকে হামাস এখন গাজার ভেতরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেয়।
যুদ্ধে তাদের অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হন, সংগঠিত সামরিক ইউনিট ভেঙে ছোট ছোট গেরিলা দলে পরিণত হয়। গাজার বহু ভবন ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির চার মাস পর গাজার বাসিন্দারা বলছেন, হামাস আবার নিরাপত্তা, কর আদায় ও সরকারি সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। স্থানীয় এক অধিকারকর্মী মোহাম্মদ দিয়াব বলেন, যেখানে হামাস উপস্থিত আছে, তার ৯০ শতাংশের বেশি এলাকায় তারা আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
হামাসের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় টহল দিচ্ছে, অপরাধ দমন করছে এবং যাদের সহযোগী বা ভিন্নমতাবলম্বী বলে মনে করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরিচয়পত্র বা স্বাস্থ্যসেবা পেতে এখনো অনেক ক্ষেত্রে হামাস কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যেকোনো সময় শুরু হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং আবারও ভাড়া ও কর আদায় কঠোরভাবে শুরু হয়েছে। এক দোকানদার অভিযোগ করেন, প্রতিদিন এসে ৭০০ শেকেল ভাড়া দাবি করা হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই দেয়া সম্ভব নয়। কেউ না দিলে জোরপূর্বক উচ্ছেদের হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইসরাইল থেকে যেসব পণ্য গাজায় আসছে, সেগুলোর ওপরও হামাস কঠোর কর আরোপ করছে বলে কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন। এক ব্যবসায়ী জানান, করের পরিমাণ পণ্যের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোর প্রয়োগ বা হুমকির ঘটনাও ঘটছে। তিনি বলেন, লেনদেন নগদে নেয়া হচ্ছে, যাতে অর্থের উৎস সহজে শনাক্ত করা না যায়।
তবে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, গাজা এখন জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে আছে এবং বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তার দাবি, কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করছে, তাই প্রশাসনিকভাবে কঠোর হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি সরকারি বিষয়, হামাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
আরও পড়ুন: স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ / পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী করছে ইরান
২০০৭ সাল থেকে গাজার প্রশাসন হামাসের হাতে। সংগঠনটির ক্ষমতা ধরে রাখতে অর্থ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, হামাস যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ইসরাইলের দাবি, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
হামাস বলছে, তারা এমনভাবে অস্ত্র ইস্যু সমাধান করতে চায়, যাতে আবার যুদ্ধ শুরু করার অজুহাত তৈরি না হয় এবং ভবিষ্যৎ শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সেটি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। তবে কিভাবে, কাকে এবং কোন অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তার ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছেনন। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটন ডিসিতে একত্রিত হয়ে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও অর্থায়ন নিয়ে কৌশল ঘোষণা করবেন।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৪






Bengali (BD) ·
English (US) ·