গতি পেয়েছে যশোর ইপিজেড, প্লট বরাদ্দ জুলাইয়ে

১ সপ্তাহে আগে
গতি পেয়েছে যশোর ইপিজেড নির্মাণ কাজ। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ভূমি উন্নয়ন কাজ। একযোগে চলছে ড্রেন, সড়কসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়ন কর্ম। কাগজ কলমে কাজের অগ্রগতি ৩৬ শতাংশ। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রস্তুত হবে শতাধিক প্লট এবং তা দেয়া যাবে বরাদ্দ বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া, মহাকাল, প্রেমবাগ, বালিয়াডাঙ্গা, আমডাঙ্গা, আরাজি বাহিরঘাট, মাগুরা ও রাজাপুর মৌজায় ৫০২ দশমিক ৯০৬ একর জমিতে যশোর ইপিজেড প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ ইপিজেডে ৪৩৮টি প্লট তৈরি করা হবে। যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। এতে করে প্রায় দেড় লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। প্রকল্প গ্রহণের দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০২৫ সালে শুরু হয় যশোর ইপিজেড নির্মাণ কাজ। গত এক বছরে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩৬ শতাংশ।


প্রকল্পের ঠিকাদার নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কাজের অগ্রগতি খুবই ভালো। আমরা এখানে ৫-৬ জন ঠিকাদার কাজ করছি। ইতিমধ্যে অ্যাপ্রোচ ১ এবং অ্যাপ্রোচ ২ এর কাজ শেষ হয়ে গেছে। এবং মেইন রোডের কাজ চলমান আছে। মেইন রোডের কাজও  ৬০ শতাংশ হয়ে গেছে। বালু ভরাটের কাজ  ৭৫ শতাংশ হয়ে গেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের অ্যাপ্রোচ পাইল টেস্ট ও টেস্ট পাইল হয়ে গেছে। এখন পাইলের কাজ চলমান। আমাদের যে সময় আছে, আমরা তার মধ্যেই কাজগুলিকে সম্পন্ন করতে পারবো ইনশাল্লাহ।’


আরও পড়ুন: নতুন বছরে দেয়া হবে পটুয়াখালী ইপিজেডের প্লট বরাদ্দ


এ দিকে কাজ এগিয়ে চললেও যাদের জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ইপিজেড, সেই ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।


এ বিষয়ে শাজাহান আলী নামে এক জমিদাতা বলেন, ‘ইপিজেড হচ্ছে এতে আমরা খুশি, ইপিজেডের ভিতরে আমার চার বিঘা জমি গেছে। যে দাম আমাদের দিচ্ছে, এই চার বিঘার টাকা দিয়ে আমি বাইরে এক বিঘাও কিনতে পারব না। কিন্তু সেই টাকাটাও এখনো হাতে পাননি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ইপিজেড হলে আমাদের কতখানি উপকারে আসবে এ তো বলতে পারছি না। তবে আমাদের ন্যায্য মূল্যটা দিলেই আমরা খুশি হতাম।’


 

যশোর ইপিজেডে কাগজ কলমে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩৬ শতাংশ। ছবি: সময় সংবাদ


আব্দুল মতিন নামে অপর এক জমিদাতা বলেন, ‘আমার দুই বিঘা জমি পড়েছে, একটা টাকাও পাচ্ছি না। এখন চাষবাস নেই, খুব অভাব। ইপিজেড তো জমি নিয়েই ফেলেছে, তা আমাদের টাকা কয়টা দিয়ে দিলে আমরা যে কোনো কাজ করতে পারি।’


আরও পড়ুন: নামেই শিল্পনগরী, বাস্তবে প্রায় জনশূন্য কুড়িগ্রাম বিসিক


নজরুল ইসলাম নামে অপর এক জমিদাতা বলেন, ইপিজেড চালু হলে আমাদের কর্মসংস্থান হবে, আমরা কর্ম করে-চাকরি করে খাতে পারব। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব ভালোভাবে চলতে পারবো। ইপিজেড নিয়ে আমারা বেশ খুশি। আর ইপিজেডে যে জমি গেছে তার কিছু টাকা আমি পাইছি আর অল্প কিছু বাকি আছে। আমার মত বহুত লোকজনকে দিছে, আরও যা বাকি আছে সেগুলোও দেয়ার চেষ্টা চলছে। বাকি টাকা তাড়াতাড়ি যাতে পাই সেই অনুরোধ জানাচ্ছি।’


এ দিকে চেক বিতরণের সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সব চেক সময়মত দিয়েছিলাম। কিন্তু একটা ক্রস চেকিংয়ের জন্য জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে এই চেকগুলো আটকে ছিল দীর্ঘদিন পর্যন্ত। আমি জানার পরে তাৎক্ষণিকভাবে এটা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সেখানে পত্র দিয়েছিলাম। আমরা যেহেতু দ্রুত করছি ফলে তাদেরও দ্রুত করতে হবে।’


তিনি আরু বলেন, ‘তাদের জনবল সংকট বলেছিল সেটা আমরা সমাধান করেছি এবং প্রায় ১০০০ প্লাস চেক আমরা বিতরণ করেছি। অল্প কিছু চেক বাকি আছে আমরা সেগুলিও দ্রুত দেয়ার জন্য অ্যাকাউন্ট অফিসকে বলেছি। মানুষ যাতে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হয় সেজন্য আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি।’


আরও পড়ুন: নতুন বছরে দেয়া হবে পটুয়াখালী ইপিজেডের প্লট বরাদ্দ


অধিগ্রহণকৃত জমির দখল হস্তান্তর ও দরপত্র অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় কাজের অগ্রগতি কিছুটা কম। তারপরও আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রস্তুত হবে শতাধিক প্লট এবং তা দেয়া যাবে বরাদ্দ বলে জানান প্রকল্প পরিচালক মো. ইউসুফ পাশা।


তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ হলো ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। ইতিমধ্যে আমাদের ৩৬ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। আর আমাদের সময়ের তুলনায় অগ্রগতি কম হলেও এখন মোটামুটি অনেকগুলি কন্ট্রাক্ট যেমন বিল্ডিংয়ের কন্ট্রাক্ট, রাস্তার কন্ট্রাক্ট, ড্রেনের কন্ট্রাক্ট—এই কন্ট্রাক্টগুলিসহ মেজর কন্ট্রাক্টগুলি হয়ে গেছে। এখন কাজগুলি ফুল সুইংয়ে চলছে।’


আরও পড়ুন: প্লট দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের ১৮ বছরের কারাদণ্ড


তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি আমরা আগামী জুলাই থেকে ১০০ প্লটের মতো রেডি করতে পারবো। এবং জুলাই মাস থেকে আমরা ইনভেস্টরদের অনুকূলে বরাদ্দ দিতে পারবো।’


প্রকল্প পরিচালক মো. ইউসুফ পাশা বলেন, ‘এখানে হংকং, চায়না, জার্মানি—এই ধরনের বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর চাহিদা আছে এবং ওনারা যোগাযোগ করছে প্লটের জন্য। আমরা আমাদের বিনিয়োগ উন্নয়ন শাখাকে জানিয়েছি, আশা করি জুলাই থেকে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’


প্রকল্প অফিসের তথ্য মতে, যশোর ইপিজেড প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৬৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন