‘খালার হোটেল’ আগের মতো নাই, গরুর মাংস যেন ‘নিষিদ্ধ বিলাসিতা’

১ সপ্তাহে আগে
মানুষ আসছে, বসছে। পেট ভরে খাচ্ছে। কেউ রিকশাচালক, কেউ দিনমজুর, কেউবা স্বল্প আয়ের চাকুরীজীবী। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের পাতে এক টুকরো মাছ বা ডিমের ঝোল নিয়ে তৃপ্তি করে খেয়ে আবার মিশে যাচ্ছে শহরের ব্যস্ততায়।

রাজধানীর গুলিস্তানে হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের পাশের ফুটপাথে দৈনিক দুপুরে হাঁড়িপাতিল ভর্তি খাবার নিয়ে বসেন এই নারী। তার গ্রাহকদের অধিকাংশই নিয়মিত; যারা তাকে ‘খালা’ বলে ডাকেন।

 

তিলোত্তমা ঢাকায় এমন ‌‘খালার হোটেল’ অগনতি। এখানে আভিজাত্য নেই, আছে শুধু ক্ষুধা মেটানোর ভরসা। কয়েকটা প্লাস্টিকের টুল আর ফুটপাতের খোলা আকাশ এটাই নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর স্বস্তির জায়গা।

 

তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ভাত খাওয়ার এই স্বস্তিও কেড়ে নিচ্ছে। আগে যেখানে মাত্র ৫০ টাকার ভাত-তরকারি দিয়ে পেট ভরে যেত, এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

 

খালার কণ্ঠে তাই আক্ষেপ, ‘চাল, ডাল, তরি-তরকারি, মাছ, মশলা সবকিছুর দাম বাড়ছে। আগে ১০ কেজি চালের ভাতও বেচছি। আর এখন ৫ কেজি আনছি, হেইডাও শেষ করতে রাত ১২টা বাজে। তাও থাইকা যায় কি না গ্যারান্টি নাই।’

 

রাজধানীর গুলিস্তানে হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের পাশের ফুটপাথে দৈনিক দুপুরে হাঁড়িপাতিল ভর্তি খাবার নিয়ে বিক্রি করছেন এক নারী। ছবি: সময় সংবাদ

 

খালার দিনলিপিটা বেশ কষ্টের। ফকিরাপুলে একটা ছোট ভাড়া বাসায় থাকেন। সেখানেই কাকডাকা ভোরে শুরু হয় রান্নার তোড়জোড়। হাড়ি-পাতিল গুছিয়ে রিকশায় করে নিয়ে আসেন গুলিস্তানে। মেন্যুতে থাকে মাছ, ডিম, মুরগি। কিন্তু ডাল-ভাতের এই চিরচেনা সংসারে গরুর মাংস এখন এক ‘নিষিদ্ধ বিলাসিতা’।

 

খালা বলেন, ‘গরুর গোশতের অনেক দাম। আমাগো আর পোষায় না, কাস্টমারও এত টাকা দিয়া খাইতে চায় না। তাই গোশত আনা এক্কেবারেই বাদ দিছি।’

 

আগে যেভাবে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত, এখন সেটা অনেক কমেছে। খালার কথায়, ‌‌‘মানুষ এখন অনেক হিসাব করে চলে। অনেকে একবেলার খাবার বাদ দিচ্ছে, অথবা কম দামী কিছু খুঁজতেছে।’

 

যার প্রভাব বেশ ভালোই পড়েছে খালার ছোট এই ব্যবসায়। প্রতি সন্ধ্যায় নিয়ন আলো জ্বলে ওঠে, চারপাশের আকাশছোঁয়া ভবনগুলো ঝলমল করে। তখন এই লড়াকু নারী তার অবশিষ্ট ভাতটুকু নিয়ে প্রহর গুনতে থাকেন। ভাবেন, কালকে কতটুকু চাল চুলোয় তুলবেন!

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন