চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাড়ে সাত মাসে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১০ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পাম অয়েল, ৬৫ হাজার ২২২ কোটি টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬৩ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানি করেছে দেশের শিল্প গ্রুপগুলো।
এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একই সময়ে ১৩ হাজার ২৭ কোটি টাকা মূল্যের ২ লাখ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত চিনি ও ৮৮৬ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি খালাস হয়েছে। ভোজ্যতেল ও চিনির এ আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
আরও পড়ুন: ঊর্ধ্বমুখী ফলের দামও / পয়লা রমজানেই নিত্যপণ্যে আগুন, বেগুন-শসার ’সেঞ্চুরি’
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, রমজানকে সামনে রেখে তেল এবং চিনি যেহেতু যথেষ্ট আমদানি হয়েছে, এক্ষেত্রে বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করলে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
তবে আমদানি বাড়লেও দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে নানা অজুহাত চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েই চলেছে। গত দুই সপ্তাহে প্রতিমণ পাম অয়েল ৫৮ টাকা, সুপার ৬০ টাকা এবং সয়াবিন ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অস্থির হয়েছে চিনির বাজারও। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স আল আমিন স্টোরের মালিক আহমেদ সবুজ বলেন, আগের রেট থেকে প্রতি মণে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স আল মদিনা ট্রের্ডাসের মালিক এহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, চিনি সরবরাহ স্বাভাবিক আছে এবং সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সুযোগ রয়েছে।
বছরে বাংলাদেশে ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল, ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে রমজানেই চাহিদা থাকে ৩ লাখ মেট্রিক টন তেল ও আড়াই লাখ মেট্রিক টন চিনি। চলতি মাসে এলসি খোলায় জটিলতা না থাকায় আগেই আমদানি হয়েছে এসব ভোগ্যপণ্য।
চট্টগ্রাম ক্যাবের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, রমজান আসলে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ভোজ্যতেল ও চিনিরি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে অটোমেটিক্যালি দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। এইবারও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি।
আরও পড়ুন: ট্যারিফ ও এলসি মার্জিন সুবিধার পরও খেজুরের বাজারে অস্থিরতা কেন?
তবে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে কোনো কারসাজি নেই। চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর আবদুস সালাম বলেন, খুচরা পর্যায়ে দ্রব্যের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীদের পক্ষে তা মনিটর করা সম্ভব নয়; বরং জেলা প্রশাসক পাইকারি বাজার আর খুচরা বাজারের মধ্যে মূল্যের যে ব্যবধান আছে তা মনিটর করে ঠিক করতে পারেন।
চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার বা ডিউটি স্লাব সম্পর্কে জানার জন্য এখন এনবিআর বা অনলাইনে তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে, লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, এমন অভিযোগে এরইমধ্যে একাধিকবার কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়েছে কোস্টগার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
২






Bengali (BD) ·
English (US) ·