বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে যখন মুসলিম উম্মাহর মধ্যে তিলাওয়াতের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়, তখন মদিনার এই মুদ্রণটিই সবার প্রথম পছন্দে থাকে।
এই অসাধারণ লিখনশৈলীর নেপথ্যে রয়েছেন একজন কিংবদন্তি মানুষ, যাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্যালিগ্রাফার বলা হয়। তিনি হলেন শেখ উসমান তোহা। কুরআনুল কারীমের লিপিকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজপাঠ্য করতে তিনি তার জীবনের সিংহভাগ সময় ব্যয় করেছেন। রসম উসমানি বা কুরআনের চিরাচরিত লিখন পদ্ধতিকে তিনি এতটাই নিপুণভাবে সাজিয়েছেন যে, তাকে ‘عميد خطاطي المصحف الشريف’ বা কুরআন ক্যালিগ্রাফারদের প্রধান উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
উসমান তোহার জন্ম ১৯৩৪ সালে সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের এক ধার্মিক পরিবারে। তার বাবা শেখ আবদু হোসেন তোহা ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে ক্যালিগ্রাফির হাতেখড়ি হয় তার।
আরও পড়ুন: এবার কওমী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি আলেপ্পোর বিখ্যাত খাত্তাত বা ক্যালিগ্রাফারদের সান্নিধ্যে থেকে এই শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেন। মোহাম্মদ আলী আল-মৌলভী, হোসেন হুসনি তুর্কি এবং ইব্রাহিম আল-রিফাইয়ের মতো ওস্তাদদের কাছ থেকে তিনি এই শিল্পের সূক্ষ্ম কাজগুলো শিখেছেন।
তবে উসমান তোহার ক্যালিগ্রাফি জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্যালিগ্রাফার হামিদ আল-আমিদির কাছ থেকে সনদ বা ইজাজত লাভ করা। হামিদ আল-আমিদির শিষ্যত্ব গ্রহণ করা এবং তার কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া যেকোনো ক্যালিগ্রাফারের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই স্বীকৃতির মাধ্যমেই উসমান তোহা নিজেকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খাত্তাতদের কাতারে নিয়ে যান।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মদিনার কিং ফাহাদ কমপ্লেক্সে পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। তার এই অভাবনীয় ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সৌদি আরব সরকার তাকে দেশটির সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করেছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে সহজ ও সুন্দর লিপির কুরআন আমরা পাঠ করি, তার প্রতিটি অক্ষরের পেছনে মিশে আছে এই নিভৃতচারী শিল্পীর গভীর মমতা ও সাধনা।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·