এর দ্বারা নিঃসন্দেহে প্রমানিত হয় যে, রমজানের খায়ের ও বরকত পূর্ণরুপে লাভ করতে হলে তারাবির ব্যাপারে অবশ্যই যত্নবান হতে হবে।
তারাবির রাকাত সংখ্যা
তারাবির মর্যাদা অন্যান্য সুন্নত ও নফল থেকে অনেক উর্ধে। তাই নবীজির পূণ্যময় যুগ থেকে মক্কা মদিনাসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিমগন বিনা বাক্যে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়ে আসছেন। কেউ এর বিরুদ্ধাচারণ করেননি; তবে হিজরির সাড়ে বার শ বছর পর সর্ব প্রথম ভারতের এক মৌলভি ২০ রাকাতকে বিদাত এবং ৮ রাকাতকে সুন্নত সাব্যস্ত করে এক অদ্ভুত ফতোয়া জারি করেন।
অতঃপর হিজরির তের শ বছর পর থেকে আরবের ক'জন শায়খ এ ফতোয়া সমর্থন করেন। তখন থেকেই হক্কানি উলামাগন তারাবিহ সম্পর্কে দলিল সমৃদ্ধ বই পুস্তক রচনা করে উম্মতকে সতর্ক করেন। করোনা মহামারীর পর থেকে মক্কা ও মদিনা শরিফে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনায় ১০ রাকাত তারাবি শুরু হয়েছে। যার পক্ষে শরিয়তের কোন দলিল নাই। সাহাবা যুগে তারাবিহ সম্পর্কে হজরত সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) বলেন,আমরা হজরত উমর (রা.) এর যুগে ২০ রাকাত তারাবিহ এবং ৩ রাকাত বিতির পড়তাম। (আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হকি, ১/২৬৭হাদিসের মান সহিহ)
সহিহ হাদিস নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি
আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হল, রমজানে নবীজির নামাজ নামাজ কেমন ছিল? তিনি বললেন, রসুলুল্লাহ (সা.) রমজান এবং রমজান ছাড়া অন্যমাসেও এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি চার রাকাত পড়তেন। তার নামাজের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তারপর চার রাকাত পড়তেন তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতঃপর তিনি তিন রাকাত বিতির পড়তেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ২০১৩)
আরও পড়ুন: রমজান কবে জানা যাবে বুধবার
কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ করলে পরিষ্কার হয়ে যায় এটি তারাবিহ নয় বরং তাহাজ্জুদের হাদিস। ১.এতে ১২ মাস তথা সারা বছরের কথা বলা হয়েছে। তাহাজ্জুদই কেবল ১২ মাস পড়া হয়। ২. এতে একসাথে ৪ রাকাত পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। তারাবীহ ২ রাকাত করে পড়া হয়। ৩. নবীজি সারা জীবন তাহাজ্জুদ পড়েছেন। আর তারাবিহ কেবল জীবনের শেষ রমজানের কয়েক রাতে পড়েছেন। সুতরাং তাহাজ্জুদের হাদিসকে তারাবিহ বলে চালিয়ে দেওয়া কি সঠিক কাজ হতে পারে? আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন, আমিন।
তারাবিতে অন্তত একবার কোরআন খতম করা সুন্নত। সাহাবাগন এর উপর ঐক্যমত পোষন করেছেন। হাদিস শরিফে আছে, রোজ হাশরে কোরআন শরিফ আল্লাহ তাআলাকে বলবে,হে আমার রব! আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বারণ করেছি। তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তা কবুল করা হবে। (শুআবুল ঈমান-১৮৩৯)
তাই তারাবীতে কয়েকটি বিষয় লক্ষনীয়- ১.ধীরে ধীরে তারতিলের সাথে তিলাওয়াত করা। অতি দ্রুত তিলাওয়াত, যাতে পড়া স্পষ্ট বোঝা যায় না, অবশ্যই তাতে গুনাহ হবে। ২.বিনিময় প্রাপ্তির আশা ছাড়া তারাবিহ পড়ানো উচিত। পূর্ব থেকে টাকার চুক্তি করে আসা খুবই মন্দ কাজ। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তের দ্বারাই এবাদত কবুল হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সকল ইবাদতে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা, খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ

১ সপ্তাহে আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·