কুড়িগ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত মিশনে নিহত দুই সেনা সদস্য

৩ সপ্তাহ আগে
সুদানে শান্তি মিশনে নিহত কুড়িগ্রামের দুই সেনা সদস্যের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারীতে ভারি হয়ে উঠে পরিবেশ।

পরে তাদের দু'জনের মরদেহ নিজ নিজ পরিবার ও স্বজনদের দেখানোর পর জানাযা ও গার্ড অব অনার শেষে সেনা বাহিনীর তত্বাবধানে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।


রোববার দুপুর দুইটার দিকে দুই সেনা সদস্যের লাশ সামরিক হেলিকপ্টারে জেলার উলিপুর উপজেলান হেলিপ্যাডে নামানো হয়।


পরে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে মো. মমিনুলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি উলিপুরের উত্তর পান্ডুল গ্রামে আর শান্ত মন্ডলকে তার গ্রামের বাড়ি রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল ৪ টার দিকে মিশনে নিহত দুই সেনা সদস্যের মরদেহ তাদের নিজ গ্রামের বাড়িতে সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়।


নিহত সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন। তিনি চলতি বছরে মিমনে যোগ দেন।  দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি।  বাবা মা ও ছোট ভাইয়ের সংসারে একমাত্র কর্মক্ষম ছিল মমিনুল।  মমিনুলের মৃত্যুতে তার বাড়িসহ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত মাসুদ রানাকে দাফন করা হলো নাটোরে

নিহত শান্ত মণ্ডল ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন।  এরপর চলতি বছরের নভেম্বরে শান্তি মিশনে সুদানে যান। সেখানে বিদ্রোহীদের বোমার আঘাতে প্রান হারান তিনি। দুই বছর আগে দিলরুবা আক্তার বৃষ্টির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় শান্ত। বর্তমানে বৃষ্টি  ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায় পারিবার।


উলিপুরের নিহত সেনা সদস্য মো. মমিনুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম জানায়, মমিনুল ইসলাম ছিল পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম। তার মৃত্যুতে সংসার হাল ধরার মতো ছোট ছেলে ছাড়া আর কেউ নেই। ছোট ছেলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের প্রতি খবেদন জানান তিনি।


উলিপুর থানার ওসি সাইদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, ‘সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শান্তি রক্ষা মিশনে নিহত উলিপুরের মো. মমিনুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হেরিকপ্টারে লাশ আসা থেকে শুরু করে কবর দেয়া পর্যন্ত আমরা সহযোগিতা করেছি।’


রাজারহাট থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ মিশনে নিহত শান্ত মণ্ডলের মরদেহ তার গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন