বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অতিক্রম হলেও এখনো হলে অবস্থান করছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার ঘোষণা তাদের।
বুধবার ভোর থেকেই দেখা যায় এক-দুইজন করে কিংবা দলবেধে ব্যাগ নিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস গেটে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকও এসেছেন তাদের নিয়ে যেতে।
খুলনা পাইকগাছা উপজেলা থেকে ছেলেকে নিতে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তিনি বলেন, টেলিভিশনে খবর দেখে ছেলেকে নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন আমার পরিবার। আপাতত ছেলের লেখাপড়া নয়, ছেলের নিরাপত্তা নিয়েই আমরা বেশী চিন্তিত। এজন্য নিজেই সন্তানকে নিতে এসেছি।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি, কুয়েট ভিসির বাসভবনে তালা না দিয়েই ফিরে গেলেন শিক্ষার্থীরা
তবে হলত্যাগের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে হলে থাকার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এখনও হলগুলোতে অবস্থান করছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকার ঘোষণা তাদের৷
নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৯৯তম জরুরি সভায় সব একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত অবস্থানরত শিক্ষার্থীর বিষয়ে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ক্যাম্পাসের দুই গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে ৬ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।