কিশোরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

১ সপ্তাহে আগে
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আঁখি আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রহস্য উদঘাটনে ওই গৃহবধূর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে শহরের পঞ্চবটি এলাকার শাহাবুদ্দিন মিয়ার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এ দিকে নিহতের স্বামীর দাবি আঁখি আত্মহত্যা করেছে।


অপর দিকে আঁখির পরিবারের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।


নিহত আঁখি কিশোরগঞ্জের ভাওয়াল গ্রামের মাহবুব আলমের মেয়ে।


জানা যায়, আঁখি আক্তারের সঙ্গে ভৈরবে পঞ্চবটী এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে ইমরান মিয়ার বিয়ে হয় তিন বছর আগে। তাদের দুবছর বয়সী এক ছেলে সন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকে সংসারে সুখ ছিল না আঁখির। অকারণে তাকে প্রায়ই মারধর করতেন ইমরান। তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দিত না তাকে।


আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু


আজ সকাল ৯টার দিকে আঁখির মা পাশের বাড়িতে বেড়াতে আসায় তার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে যান। ইমরান বিষয়টি জানতে পেরে ওই বাড়িতে গিয়ে আঁখির মায়ের সামনেই তাকে মারধর করতে থাকেন এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে বাসায় নিয়ে যান।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, এতে আঁখি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


ইমরানের দাবি, তাকে মারধর করায় অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আঁখি। তাকে নামিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক


আঁখির মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘মেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ায় তাকে ইমরান (জামাই) মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে ইমরান তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তাকে দা দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করা হয়। তখন এলাকাবাসী দা কেড়ে নিয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে তাকে লাকড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এ সময় সে মারা গেলে তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’


প্রতিবেশী আ. মালেক বলেন, ‘মেয়েটিকে মারতে মারতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন ইমরান। এ সময় ইমরান আঁখিকে দা দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করেন। আমি তার হাত থেকে দা কেড়ে নিতে গেলে আমার হাত কেটে যায়। পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে লাকড়ি দিয়ে পিটানোর পর মেয়েটি মারা যান। পরে ইমরান তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়।’


ভৈরব থানার উপপরিদর্শক ফরিদুজ্জামান বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। রিপোর্ট প্রাপ্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমরানকে আটক করা হয়েছে।
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন