কিউইদের ‘আনকোরা’ দলের কাছে বাংলাদেশের ২৬ রানের হার

১ সপ্তাহে আগে
একাদশের ১১ খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র ২ জন ছাড়া আর কেউই ২০টি ওয়ানডে ম্যাচও খেলেননি। এমনই এক আনকোরা দল নিয়ে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। আনকোরা সেই দলের বিপক্ষেই হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ইনিংসের পুরোটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তীরে এসে তরী ডুবিয়েছেন টাইগার ব্যাটাররা।

আজ (১৭ এপ্রিল) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ৯ বল বাকি থাকতে ২২১ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা।


রমজানের কারণে সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজে তেমন দর্শক সমাগম দেখা যায়নি। তবে আজকের আবহটা ছিল একটু ভিন্ন। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেও বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দিতে সকাল থেকেই মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ভিড় করতে শুরু করেন দর্শকরা। বেলা বাড়তে শুরু করলে কয়েকটি গ্যালারি ভরেও উঠতে শুরু করে।


গ্যালারি ছাড়া স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে উপস্থিত থেকে আজ খেলা উপভোগ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান, সেনা প্রধান ওয়াকারউজ্জামান, বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম এবং বিসিবি প্রধান তামিম ইকবাল। মূলত তামিমের ডাকে সাড়া দিয়েই মাঠে এসেছেন তারা। তবে সমর্থনের জবাবটা একদমই ভালোভাবে দিতে পারলেন না টাইগার ক্রিকেটাররা। কিউইদের দেয়া ২৪৮ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পুরো ইনিংসের বেশিরভাগ সময় লড়াইয়ে এগিয়ে থেকেও হেরেছে বাংলাদেশ।


আরও পড়ুন: ক্যাপ্টেনস কার্ড ও এর সুবিধাগুলো কী?


এই হারে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি খেলা নিয়ে বড় একটা শঙ্কা তো তৈরি হলোই, বাড়িয়েছে হতাশা এবং অস্বস্তিও। কারণ কিউইদের এই দলটা তাদের মূল ওয়ানডে দলের চেয়ে অনেকটা আলাদা। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে থাকা ১৬ ক্রিকেটারের ১১ জনই নেই এই সিরিজে। যে কয়েকজন আছেন, তাদের মধ্যে হেনরি নিকোলস এবং টম লাথাম ছাড়া কারোরই ২০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এমন আনকোরা দলের কাছে হেরে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা নিঃসন্দেহে আক্ষেপে ভাসাবে টাইগারদের।


আর সেটা হবে না-ই বা কেন, ম্যাচটা যে একদম হাতের মুঠো থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন কিউইরা। শেষ ১০ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৬৭ রান, হাতে ৬ উইকেট। উইকেটে পুরোপুরি দুই সেট ব্যাটার আফিফ হোসেন এবং তাওহীদ হৃদয়। এমন ম্যাচে জয়ের চেয়ে বরং হারাটাই কঠিন ছিল টাইগারদের জন্য।


৪০.৩ ওভারে দলীয় ১৮৪ রানে ফেরেন আফিফ। রানের চাপে পড়ে লেনক্সকে বাউন্ডারি ছাড়া করতে গিয়ে লংঅনে ধরা পড়েন এই ক্রিকেটার। অবশ্য অতিরিক্ত ডট খেলে নিজের ওপর চাপটা নিজেই তৈরি করেন তিনি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেমে করেছেন ৪৯ বলে ২৭ রান। প্রয়োজনের সময় হাল ধরতে পারেননি অধিনায়ক মিরাজও।


আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে রুবেলের বিদায়


১৪ বলে ৬ রান করে আউট হন দলীয় ১৯৪ রানে। উইকেটের মিছিলে এরপর যোগ দেন রিশাদ হোসেন এবং শরিফুল ইসলাম। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে এই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দিকহারা মাঝির মতো ব্যাট হাতে শেষদিকে কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন হৃদয়। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। ৬০ বলে ৫৫ রান করে নাথান স্মিথের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়।


এর আগে রান তাড়ায় নেমে ভালো শুরু করেছিলেন সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম। তবে জুটি বড় করতে পারেননি। চতুর্থ ওভারে দলীয় ২১ রানে তানজিদ আউট হন, করেন ৬ বলে ২ রান। পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রান যোগ করেন সাইফ ও লিটন দাস।


২২.৩ ওভারে দলীয় ১১৪ রানে সাইফ আউট হন। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন। ১৩২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। লিটন দাস আউট হন ৩ চারে ৬৮ বলে ৪৬ রান করে। পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও আফিফ মিলে যোগ করেন ৫২ রান। কিউই বোলারদের মধ্যে ব্লায়ার টিকনার ৪ উইকেট নেন। নাথান স্মিথ নেন দুই উইকেট।


ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে দলীয় সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে হেনরি নিকোলস। মিডল অর্ডারে নেমে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন ফক্সক্রফট। এছাড়া উইল ইয়াংয়ের ৩০ এবং নাথান স্মিথের ২১ রান কিউইদের দলীয় সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন