কাপ্তাইয়ে দিনভর মেলেনি সূর্যের দেখা, হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির পাহাড়ি জনপদ

১ সপ্তাহে আগে
হ্রদ, পাহাড় আর অরণ্যঘেরা পার্বত্য জনপদ কাপ্তাইয়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পুরো এলাকা; গত ২৪ ঘণ্টায় একবারের জন্যও দেখা মেলেনি সূর্যের। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়েছে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জনজীবন। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড় ও হ্রদ পাড়ের নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম, রাইখালী, কাপ্তাই, ওয়াগ্গা ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, তীব্র ঠান্ডায় মানুষ অনেকটা গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। হাড়কাঁপানো শীত থেকে বাঁচতে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।


মুসলিম পাড়া এলাকার সিএনজি চালক মনির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, 'বেলা ৪টা বেজে গেল, কিন্তু ঠান্ডার কারণে মানুষ বের না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী পাইনি।' শুধু চালক নন, ক্রেতা সমাগম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।


কুয়াশা এতটাই ঘন যে, দিনদুপুরেও দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। এদিকে তীব্র শীত ও পশ্চিমা বাতাসে বোরো বীজতলা এবং শীতকালীন রবি শস্যের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কৃষক শাহ আলম জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা ফসলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।


আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।


আরও পড়ুন: কনকনে শীতে সড়কে ফেলে যাওয়া সেই ২ শিশুর একটির মৃত্যু


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার ওমর ফারুক রনি বলেন, 'শীতজনিত রোগীর চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে। আমরা সাধ্যমতো সুচিকিৎসা দিচ্ছি এবং সবাইকে এ সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।'


স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। জানুয়ারির শুরুতে শীতের এই দাপট আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে শীতের তীব্রতা সমতলের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।


তীব্র এই শীতে পাহাড়ের দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন