হজরত বারা বিন আজিব (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জনৈক আনসারি সাহাবির জানাজায় শরিক হওয়ার জন্যে বের হলাম। তখনও কবরের খনন কাজ শেষ হয়নি। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিবলামুখী হয়ে বসে পড়লেন।
আমরাও তার চারপাশে বসে গেলাম। তার হাতে ছিল একটি কাঠি। তা দিয়ে তিনি মাটিতে খুঁচাতে ছিলেন এবং একবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছিলেন আর একবার জমিনের দিকে মাথা অবনত করছিলেন। তিনবার তিনি দৃষ্টি উঁচু-নিচু করলেন। তারপর বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাও।’ কথাটি তিনি দুইবার অথবা তিনবার বললেন।
তারপর তিনি এ দোয়াটি করলেন-
أَللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوْذُبِكَ مِنْ عَذاَبِ الْقَبْرِ (উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নি আউ-জুবিকা মিন আ’জা-বিল ক্ববরি।)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের আজাবের ভয়ে যেমন কাঁদতেন তেমনি তিনি কবরের আজাবের ব্যাপারে উম্মতকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ একটি দোয়া শিখিয়েছেন।
আরও পড়ুন: পড়াশোনার ফাঁকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি কারুকার্য
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা যখন কেউ নামাজের তাশাহহুদ পড়; তখন ৪টি জিনিস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করো। এই বলে দোয়া করো-
اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আজাবিল কাবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহয়িয়া ওয়াল মামাতি ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর মাসিহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই। (মুসলিম)
উল্লেখ্য, শুধু দোয়া পাঠেই কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। সঙ্গে অন্যান্য ইবাদত, মানুষের সঙ্গে আচরণ ও লেনদেন ঠিক থাকতে হবে। তাহলেই আশা করা যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তি পাওয়া যাবে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·