নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া তার হলফনামা বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এক চমকপ্রদ চিত্র। উচ্চশিক্ষিত এই প্রার্থীর কোনো নিজস্ব বাড়ি, গাড়ি বা জমি না থাকলেও তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকা ছুঁয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, হাসনাত আব্দুল্লাহর নামে কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। নেই কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট। যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোনো গাড়িও উল্লেখ করেননি তিনি। তবে তার অস্থাবর সম্পদের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ।
হলফনামায় তিনি নিজের কাছে নগদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থাকার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ব্যাংকে তার ২৬ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরে দাঁড়ানো জামায়াত প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন হাসনাত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হাসনাত আব্দুল্লাহ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা।
হলফনামার তথ্যমতে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন তার মা-বা, স্ত্রী সাবরিনা জাহান নুসরাত এবং ছেলে হাম্মাদ আব্দুল্লাহ হামজা। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি এই আয় দিয়ে সংসার পরিচালনা করেন।
বিলাসবহুল জীবনযাপনের কোনো ছাপ হলফনামায় পাওয়া যায়নি। তার ১ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র এবং ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাতকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন জামায়াতের প্রার্থী
নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই তরুণ প্রার্থী। নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয়ের জন্য তিনি নিজের ব্যবসা থেকে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘ক্রাউডফান্ডিং’-এর মাধ্যমে আরও ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব থাকলেও হাসনাত আব্দুল্লাহর নামে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, এমনকি অতীতেও তিনি কোনো মামলায় অভিযুক্ত হননি। অন্যদিকে, তার নিজের বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে ব্যাংক কিংবা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ঋণ নেই বলেও তিনি হলফনামায় নিশ্চিত করেছেন।
দেবিদ্বার উপজেলার এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯ জন। এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। নবাগত বনাম অভিজ্ঞ–এই দুই প্রার্থীর লড়াই ঘিরেই এখন দেবিদ্বারের রাজনৈতিক মহলে বইছে উত্তাপ।

২ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·