সগত ৭ জানুয়ারি কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া চালানো হয়। পুরো মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। কিন্তু মহড়া চলাকালেই ধরা পড়ে উদ্বেগজনক চিত্র- রানওয়ে এবং এর আশপাশে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ। ঠিক ওই সময় রানওয়ে দিয়েই উড্ডয়ন করছিল যাত্রীবাহী বিমান। অথচ বিচরণ করা কুকুরের দল সরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
বেসরকারি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে বেওয়ারিশ কুকুরের উপস্থিতি বিমান চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
কক্সবাজারস্থ নভোএয়ার এয়ারলাইন্সের স্টেশন ইনচার্জ মো. সরওয়ার-উল-কাদের বলেন, 'নিরাপত্তার দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত সিরিয়াস। আমরা এ নিয়ে বিভিন্নভাবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর ও রানওয়ে এখনো নির্মাণাধীন। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হচ্ছে। এই বর্ধিতকরণ ও বাউন্ডারি নির্মাণকাজ শেষ হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। ততদিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।'
কক্সবাজারস্থ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের স্টেশন ইনচার্জ আহমদ মুসা বলেন, 'এয়ারক্রাফটের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।'
এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও পর্যটকরাও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিমানবন্দরের ভেতরে কুকুর ঢুকে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সরাসরি কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকেই নির্দেশ করে।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া, যেন সিনেমার দৃশ্য!
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমানের যাত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, 'বিমানবন্দরের ভেতরে হঠাৎ করে কুকুর ঢুকে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকে নির্দেশ করে। রানওয়েতে কোনো প্রাণী বা বস্তু প্রবেশ করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।'
আরেক যাত্রী রাফিয়া বলেন, 'বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।'
তথ্যমতে, এর আগে ২০২৫ সালের ২ আগস্ট ও ৬ নভেম্বর কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানের সঙ্গে কুকুরের ধাক্কা লাগার ঘটনায় ২টি কুকুর মারা যায়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ড্রাইভওয়েতে যানবাহন ও দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে এবং সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, 'এটি একটি মৌলিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ইস্যু। বিমানবন্দরের পেরিমিটারের ভেতরে কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী প্রবেশ করলে তা ফ্লাইট সেফটির জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে আমরা পেরিমিটারে জনবল নিয়োজিত করেছি এবং বার্ড হ্যাজার্ডসহ ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে কিছু এলাকায় পেরিমিটার এখনো নির্মাণাধীন রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন করেন, 'বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান মহোদয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন এবং ইতোমধ্যে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেরিমিটার নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ এবং পেরিমিটার সিকিউরিটি সম্পূর্ণ হলে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।'

৫ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·