ঝালকাঠি
ঝালকাঠিতে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে এনসিপি ও নাগরিক অধিকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিকদল ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের কলেজ মোড় এলাকায় ঝালকাঠি-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে এ কর্মসূচি চলছে।
এদিকে এ মৃত্যুর খবরে পুরো জেলায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার গ্রামের বাড়ি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় হাদির বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ঢল নামছে।
পিরোজপুর
পিরোজপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে শহরের সাধনার পুল এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হাদির সংগ্রামী ভূমিকা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
এ সময় বক্তারা দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
কিশোরগঞ্জ
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১১টায় শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সড়কে অবস্থান নেয়।
রাত ১২টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিল জুলাই যোদ্ধারা।
এর আগে, সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের একটি প্রতীক হয়ে থাকবে। এই লড়াই ও তার আত্মত্যাগ জাতি দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে।
আরও পড়ুন: শুক্রবার দেশে আনা হবে ওসমান হাদির মরদেহ
তারা আরও বলেন, দ্রুত হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এর চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন তরুণ আলেম মাওলানা কে এম নাজিম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী, এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল প্রিন্স এবং গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মুদাছির তুসি।
লক্ষ্মীপুর
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুর। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী ট্রাফিক চত্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ওই স্থানে এসে মিলিত হয়।
মিছিলে হাদি হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধরা। এ সময় ‘হাদি ভাইর রক্ত, বৃথা যেতে দেব না; ভারতের দালালেরা, হুশিয়ার সাবধান’ এসব শ্লোগানে রাজপথ উত্তপ্ত করে তোলেন বিক্ষুব্ধরা।
পরে উত্তর তেমুহনী ট্রাফিক চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানান।
এর আগে, রাতে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ছাত্র-জনতা।
গাজীপুর
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে প্রতিবাদ ও দায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে শিববাড়ি ও টঙ্গীর কলেজ গেইটসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে ডুয়েট শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
হাদির মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে পড়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শত শত শিক্ষার্থী সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে শিববাড়ি গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা
এদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা শিমুলতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা হাদির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেন।
একই দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর কলেজ গেইট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
আরও পড়ুন: ওসমান হাদির সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে নাটোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নাটোর শহরের মাদ্রাসা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাটোর প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, আমরা একজন দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি। হাদির মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ফ্যাসিবাদী শক্তি বাংলাদেশ থেকে পতনের পর থেকেই বিপ্লবীদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দেশের মানুষ আর এসব ঘটনা মেনে নেবে না। বাংলাদেশকে কারও কাছে বিক্রি করে দেয়া যাবে না। তারা ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতা শেখ ওবায়দুল্লাহ মীম, ফুয়াদ, শিশির ও রবিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন ছাত্র-জনতা।
এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা,’ ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুড়িয়ে দাও,’ ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ-জিন্দাবাদ’, ‘শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, গুলির মুখে কথা বলব’- প্রভূতি স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
আরও পড়ুন: এখন জাতিকে বিভক্ত করার সময় নয়, ঐক্য ধরে রাখতে হবে: নাহিদ ইসলাম
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাদির মৃত্যু খবরে তৎক্ষণাৎ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী শাহবাগে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে ক্রমেই বাড়ছে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা। এতে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
শরিফ ওসমান হাদি ওরফে ওসমান হাদি জুলাই শহিদদের অধিকার রক্ষা ও আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স-কালভার্ট এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান।

৩ সপ্তাহ আগে
৫








Bengali (BD) ·
English (US) ·