একাধিক পরিচয়ে প্রতারণা, অবশেষে শ্বশুরবাড়ি থেকে ধরা

৩ সপ্তাহ আগে
কখনো মানবাধিকারকর্মী, কখনো ইমিগ্রেশন অফিসার, আবার কখনো ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা, ছদ্মবেশ আর মিথ্যা পরিচয়ের আড়ালে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণাই ছিল কামাল হোসেন ওরফে ইমনের (৩৭) মূল পেশা। শেষমেশ নাটোরের নলডাঙ্গায় শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়েছে এই ‘মহাপ্রতারক’।

পীরগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুল ইসলাম তার বাবা, মা ও খালাকে নিয়ে পবিত্র উমরাহ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় অনলাইনে কামাল হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কামাল নিজেকে ইমিগ্রেশন অফিসার পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার একটি হজ এজেন্সি রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে উমরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তুলে দেন তার হাতে।


কিন্তু ভিসা, টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের নামে অগ্রিম নেওয়া ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কামাল উধাও! মোবাইল ফোন বন্ধ, ঠিকানা ভুয়া- সবকিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ। প্রতারণার শিকার আশরাফুল ইসলাম গত ৫ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।


মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয় যে প্রতারণার মূল হোতা কামাল হোসেন। এরপর পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল নাটোরের নলডাঙ্গা থানার ঠাকুর লক্ষীকুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে কামালকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।


আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে প্রতারণা, সতর্ক করল হাইকমিশন


পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, কামাল কেবল একা নন, বরং একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে মানুষকে প্রতারিত করে আসছিলেন। কখনো মানবাধিকারকর্মী, কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করা ছিল তার প্রধান কৌশল।


ওসি আরও জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন