‘একলা রাইখা চইলা গেলা, আমি এখন কী করমু’

৪ সপ্তাহ আগে
‘কত করে কইলাম তোমরা বাড়ি থাকো, আমি যাই; আমার ডিউটি আছে। বউ কইল না তুমি একলা একলা যাইবা। আমার ভালো লাগে না। এখন আমারে ছাইরা কেমনে একলা রাইখা চইলা গেলা। আমি এখন কী করমু।’

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ৩নং পল্টুন থেকে নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে সাঁতরে তীরে আসা যাত্রী আবদুল আজিজুল স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন।


বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি উল্টে নদীতে পড়ে যায়। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাসটিতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক যাত্রী।


সাঁতরে বেঁচে ফেরা ওই যাত্রী বলেন, ‘তাকে (স্ত্রীকে) বলেছিলাম ২৯ মার্চ আমার ডিউটি আছে তোমরা বাড়ি থাকো, বউ শুনলো না। বললো, আব্দুল্লাহর বাপ তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। আমি বাড়ি থাকমু না। তোমারে না দেখলে আমার অস্থির লাগে। এখন আমার কী হবে; কেমনে বাঁচমু?’


আরও পড়ুন: পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসে যাত্রী ছিলেন ৪০ জন


নদীর তীরে  কাঁদতে কাঁদতে আবদুল আজিজুল আরও বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। স্ত্রী ও ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে তিনি বসে ছিলেন। হঠাৎ বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় উল্টে নদীতে পড়ে যায়। আমি সাঁতরে কোনো রকম তীরে উঠে আসি।’


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩নং ঘাটের পন্টুনে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।


আরও পড়ুন: পন্টুনের নিচে বাস, ভাঙা যাচ্ছে না দরজা-জানালা


বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। খুবই অল্প সংখ্যক যাত্রী সাঁতরে ওপরে উঠতে পেরেছেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।


রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল আসছে। তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে।


এদিকে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা সদর দফতর থেকে আরও ডুবুরি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন