এক ওভারে ৩ উইকেট শিকার করে এবার ম্যাচসেরা মোস্তাফিজ

৩ সপ্তাহ আগে
আইএল টি-টোয়েন্টিতে 'মোস্তাফিজ ম্যাজিক' চলছেই। গালফ জায়ান্টের বিপক্ষে কাটার মাস্টারের দারুণ বোলিংয়ে জয় পেয়েছে দুবাই ক্যাপিটালস। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স মোস্তাফিজকে এনে দিয়েছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) আবুধাবিতে আইএল টি-টোয়েন্টির ২৩তম ম্যাচে গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে ৬ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখে জয় পেয়েছে দুবাই ক্যাপিটালস। ৩৪ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।


দুবাই এদিন টস জিতে গালফ জায়ান্টসকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। আগে ব্যাট করে জায়ান্টস ১৯.৫ ওভারে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায়।


জবাবে ১৯.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দুবাই। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নাম্বারে উঠেছে মোস্তাফিজের দল। ৮ ম্যাচের ৭টিতে জেতা ডেজার্ট ভাইপার্স ১৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।


এদিন গালফকে ঝড়ো সূচনা এনে দিয়েছিলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। মাত্র ৩ ওভারেই ৩৯ রান তুলে ফেলেছিল গালফ। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই হায়দার আলী ফেরান গুরবাজকে। ১১ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৫ রান করেন এই ডানহাতি। পরের ওভারে মোহাম্মদ নবী ফেরান মঈন আলিকে। ৬ বলে ৭ রান করে আউট হন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।

 

আরও পড়ুন: বাসায় না জানিয়েই শুরু করেছিলেন অনুশীলন, সেই রবিনই আজ বিপিএলের মঞ্চে


ষষ্ঠ ওভারে হায়দার আলী আউট ক্রেন লোরকান টাকারকে (১)। ৪৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় গালফ।


অধিনায়ক জেমস ভিন্স পাঁচে নামা আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান গালফকে। ৪৬ বলে এই জুটি ৬৬ রান যোগ করে।


এমন সময়েই দৃশ্যপটে হাজির হন মোস্তাফিজ। পুরনো বল হাতে পেয়েই জ্বলে ওঠেন। একই ওভারে তিন উইকেট শিকার করে গালফের কোমর ভেঙে দেন।  ভিন্স এবং ওমরজাই দুজনকেই শিকার বানান কাটার মাস্টার। ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ভিন্সকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। ৩৪ বলে ৪ চারে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন গালফের অধিনায়ক। এর দুইবল পরে আরও বড় ধাক্কা। ২৬ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৪৩ রান করা ওমরজাইকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ।


পরের বলে সন ডিকসনও বোল্ড! এক ওভারে তিন উইকেট শিকার করে ম্যাচের চেহারাই বদলে দেন মোস্তাফিজ। ৩ উইকেটে ১১৫ থেকে ৬ উইকেটে ১১৬ রান হয়ে যায় গালফের স্কোরকার্ডে।


এরপর কাইল মেয়ার্স ২০ বলে ২৪ আর মার্ক আদায়ারের ১২ বলে ১২ রান ছাড়া গালফের ইনিংসে বলার মতো কিছু নেই।


৩.৫ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজ। হায়দার আলী ২টি এবং মোহাম্মদ নবি ও জেমস নিশাম ১টি করে উইকেট শিকার করেন।


জবাব দিতে নেমে পঞ্চম ওভারে সেফিকুল্লাহ আতালকে হারায় দুবাই। ওমরজাইয়ের বলে আউট হওয়ার আগে ১০ বলে ৯ রান করেন এই আফগান। ওমরজাইয়ের সেই ওভারের শেষ বলে জর্ডান কক্সও (০) বিদায় নেন।


ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গীর ও লেউস ডু প্লয় পরিস্থিতি সামাল দেন। ৩১ রানের জুটি গড়েন তারা। দশম ওভারে দলীয় ৬৬ রানের মাথায় প্লয় আউট হন। ১৫ বলে ২২ রান করে ক্লাসেনের বলে বোল্ড হন এই প্রোটিয়া।

 

আরও পড়ুন: এবার রিশাদের সাশ্রয়ী বোলিং, জয়ে শীর্ষে উঠল হোবার্ট


শায়ান ও রোভম্যান পাওয়েল আরেকটি জুটি গড়েন। ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে শায়ানের বিদায়ে এই জুটি ভাঙে। শামসির বলে আউট হওয়ার আগে ৪৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৮ রান করেন তিনি।


ছয়ে নামা মোহাম্মদ নবি ও পাওয়েল মিলে দলকে বাকি পথটুকু নির্বিঘ্নে পার করেন। ৩১ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন পাওয়েল। ১৪ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন নবি।


ওমরজাই ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। ক্লাসেন ও শামসি ১টি করে উইকেট শিকার করেন। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন