এই অস্ট্রেলিয়া দলে আগের সেই ‘অরা’ দেখেন না পন্টিং

১৫ ঘন্টা আগে
২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলের এই অকাল বিদায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোনো রাখঢাক করেননি অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিং। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে টানা দুই হারের ফলে অস্ট্রেলিয়া ছিটকে পড়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল, এরপর জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়।

যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইনজুরিতে পড়ায় প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডের মতো সুপারস্টার অনুপস্থিতি ছিলেন, পন্টিং মনে করেন পুরোনো অস্ট্রেলিয়া দলগুলো যেভাবে আইসিসি আসরে ‘অরা’ বা দাপট নিয়ে নামত, এই দলে সেটা অনুপস্থিত ছিল।


আইসিসি রিভিউ-তে পন্টিং বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব খারাপ একটা অভিযান ছিল। শুরুতেই হ্যাজলউড ও কামিন্স ইনজুরির কারণে ছিটকে যায়, আর টিম ডেভিডকেও শুরুর দিকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু যেভাবে তারা জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে, এটাই সেই ম্যাচ, যেটার দিকে ফিরে তাকিয়ে তারা বলবে—ওখানেই আমাদের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে।’


পন্টিং যোগ করেন, ‘টুর্নামেন্টের আগে গ্রুপটা দেখে আমার মনে হয়েছিল, নিজেদের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে হারানো কঠিন হবে—আর সেটাই হয়েছে। তারা অসাধারণ খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ওই রান তাড়া করা সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। এমন স্কোর তাড়া করা কখনোই সহজ নয়। কিন্তু একটা আইসিসি ইভেন্টে জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ছাপিয়ে যাবে—এমন সুযোগ আপনি এই ধরনের টুর্নামেন্টে দিতে পারেন না।’


আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে শূন্যের হ্যাটট্রিক করা অভিষেককে যে পরামর্শ দিলেন গাভাস্কার
 


ক্রিকেট দলীয় খেলা হলেও, দলে বড় তারকা থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। অতীতে আইসিসি ইভেন্টে অস্ট্রেলিয়ার দাপট দেখেছেন পন্টিং। তাই স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি যে মিচেল মার্শের নেতৃত্বাধীন এই দল কাগজে-কলমে আগের দলগুলোর মতো শক্তিশালী নয়।


পন্টিং বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, কাগজে-কলমে এই অস্ট্রেলিয়া দলটাকে দেখলে আগের বিশ্বকাপমুখী অস্ট্রেলিয়া দলগুলোর মতো সেই অরা দেখা যায় না। এই ধরনের টুর্নামেন্ট জিততে হলে আপনার সেরা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বড় মুহূর্তে দাঁড়াতে হবে। অস্ট্রেলিয়া সেটা পায়নি।’


তিনি আরও বলেন, ‘তাদের টপ অর্ডার থেকেও যথেষ্ট অবদান আসেনি। তিন নম্বরে ক্যামেরন গ্রিন, আর শেষ কয়েক ম্যাচে চার নম্বরে টিম ডেভিড—এই দুজনই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তারা দ্রুত উইকেট হারিয়েছে।’


পন্টিংকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে বড় ইভেন্ট হিসেবে দেখে না?


আরও পড়ুন: আমাদের সিনিয়ররা বিশ্বকাপে কখনো ভারতকে হারাতে পারেননি: শাদাবের খোঁচা


তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না। অ্যাশেজ সিরিজের পরপরই খেলোয়াড়দের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া কঠিন। মনে রাখতে হবে, আমাদের ছেলেরা পাঁচটা দীর্ঘ টেস্ট খেলেছে—যা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। কেউ কেউ বিগ ব্যাশ লিগ খেলেছে, কেউ বিশ্রাম নিয়েছে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি যে অস্ট্রেলিয়া দলে ছিলাম বা কাছ থেকে দেখেছি, তার কাছে হোম সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ, বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনি খেলেন বিশ্বকাপ ও শিরোপা জেতার জন্য।’


‘আমাদের এত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি এবং সেরা খেলোয়াড়দের বড় মঞ্চে পারফর্ম না করা—এই কারণেই আমরা জিততে পারিনি। এখন যে দলগুলো টিকে আছে, তাদের সেরা খেলোয়াড়দেরই টুর্নামেন্টের শেষভাগে জ্বলে উঠতে হবে, যদি তারা শিরোপা জিততে চায়,’–পন্টিং যোগ করেন। 

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন