মঙ্গলবার বিজয় দিবসের বন্ধের দিন দুপুর থেকে ট্রাকে করে সেই ইটের স্তূপ সরাচ্ছিলেন বাড়িটির পাশেই থাকা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে বাধা দেন রাজশাহীর চলচ্চিত্রকর্মীরা। ঋত্বিকের জন্মভূমির শেষ নিদর্শন টিকিয়ে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তারা।
চলচ্চিত্রকর্মীরা বলেন, ঋত্বিক কুমার ঘটকের বাড়ির শেষ চিহ্নটুকু সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এখান থেকে ইট ও ধ্বংস স্তূপ নিয়ে গিয়ে পুকুর বন্ধ করা হচ্ছে। অথচ ঋত্বিক কুমার ঘটকের বাড়ির ইটের ঐতিহাসিক মূল্য আছে, সেটা বিবেচনা করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট রাতের আঁধারে ঋত্বিক কুমার ঘটকের জলজ্যান্ত বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এরপরও আমরা ঋত্বিক কুমার ঘটকের দুটি জন্মবার্ষিকী উদযাপন করি। আমরা বরাবরই দাবি জানিয়ে আসছি ঋত্বিক কুমার ঘটক এখানে বসবাস করেছেন। তাই জন্ম ভিটার স্মৃতি চিহ্নটি সংরক্ষণ করা হোক।’
চলচ্চিত্রকর্মীরা অমিত রুদ্র বলেন, ‘ঋত্বিক কুমার ঘটকের স্মরনে রাজশাহীতে উৎসব হয়। সেই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বেস্ট স্ক্রিপ্ট এওয়ার্ড দেয়া হয়। যারা ঋত্বিক কুমার ঘটকের চিহ্ন সরিয়ে দিতে চান
তাদেরকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া যায় কিনা সেটি চিন্তার সময় এসেছে। বক্তব্যটি সারকাজম (তিক্ত উপহাস) করলাম, কিন্তু বিষয়টি এমন যে, যখনই ছুটির দিন হয়, প্রশাসনের কারো সাথে যোগাযোগ করা যায় না, তখনই ঋত্বিক কুমার ঘটকের বাড়িটি সরিয়ে দিতে একটি চক্র তৎপর হয়।’
আরও পড়ুন: রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা
সংশ্লিষ্ট জানায়, রামপুর মৌজার ১৭৮ নম্বর দাগের ৩৪ শতক জমির মালিক ঋত্বিক ঘটকের মা ইন্দুবালা। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তারা ভারতে পাড়ি জমালে জমিটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পরে ১৯৮৯ সালে রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে ইজারা দেয়া হয়। ২০১৯ সালে বাড়িটির একাংশ ভেঙে সাইকেল গ্যারেজ তৈরির অভিযোগ ওঠে। তখন সারাদেশে এ-নিয়ে প্রতিবাদ হলে বাড়িটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। ২০২১ সালে গণপূর্ত বাড়িটি সংরক্ষণে প্রাক্কলন ব্যয়ও নির্ধারণ করে।
রাজশাহীতে ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসনে মাসুদ বলেন, ‘সাইকেল গ্যারেজ তৈরির প্রতিবাদে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্তে প্রমাণিত হয় জমির মালিক ঋত্বিক ঘটকের মা ইন্দুবালা। এরপর গণপূর্ত ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়িটি সংরক্ষণে প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করে। মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার পর অজানা কারণে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’
ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহসান কবির লিটন বলেন, ‘প্রশাসন বারবারই সংরক্ষণের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই ইটগুলো পুকুর ভাগাড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এভাবে নষ্ট হচ্ছে। এটি দেখে একজন চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে যে কষ্ট হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’
হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টুকটুক তালুকদার বলেন, ‘কলেজের সামনের অংশ পরিষ্কার করার জন্য ইট অপসারণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্র কর্মীরা বাধা দেয়ার পর আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। তাদের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
১৯২৫ সালে জন্ম নেওয়া ঋত্বিক ঘটকের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এই বাড়িতে। তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে এখানেই নাট্যচর্চা করেছেন তিনি। এ বাড়িতে থেকেছেন ঋত্বিক ঘটকের ভাইঝি কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী।
]]>
৪ সপ্তাহ আগে
৭








Bengali (BD) ·
English (US) ·