স্বর্ণের বাজারে চলছে চরম অস্থিরতা। হঠাৎ করেই দাম উঠে যাচ্ছে রেকর্ড সর্বোচ্চে, আবার হঠাৎ করেই দেখা দিচ্ছে বড় পতন। উত্থান-পতনের বাজারে চলতি বছরের প্রথম মাসেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৯ বার। যেখানে দাম ১৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৫ দফা।
সবশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানুয়ারির বাজার বিশ্লেষণ
জানুয়ারি মাসটি শুরু হয়েছিল ১ জানুয়ারি দাম কমার মধ্য দিয়ে। তবে এরপর ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা ২ দফা বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি দাম কমিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা।
তবে এরপরই স্বর্ণের বাজারে দেখা দেয় টানা উত্থান। ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৬ দফা বাড়ানো হয় দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এর মধ্যে ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ দাম বেড়ে প্রতিবারই দেশে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন: ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের বড় উত্থান, কত বাড়ল দাম?
গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। তারপর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এরপর ফের ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি টানা বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। প্রতিবারই তৈরি হয় নতুন রেকর্ড। গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা।
টানা ২ সমন্বয়ে বড় দরপতন
এরপরই ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস।
টানা দুই দিনে যথাক্রমে ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা ও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানো হয়। এতে দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।
তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টা পার না হতেই ফের দেশের বাজারে বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
কেন এই অস্থিরতা?
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দামের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের কারণেই বারবার দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আর দামের এই উত্থান-পতনের ধারায় দেশের স্বর্ণের বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·