দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বাতিল করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়া বন্ধ করতে হবে। তা না হলে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
তবে ট্রাম্পের এসব হুমকি খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না ইরান। বরং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলছেন, মার্কিন হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না। ইরানে হামলা হলে তার কঠিন জবাব দেয়া হবে।
এমন হুমকি-পাল্টা হুমকি আর উত্তেজনাময় পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের দোরগোড়ায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ দ্বীপ ডিয়েগো গার্সিয়ায় কমপক্ষে চারটি দূরপাল্লার ‘স্টিলথ বি-টু স্পিরিট’ বোমারু বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: পাল্টাপাল্টি হুমকি /ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে?
আরও বলা হয়েছে, পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম বি-টু বিমানের এক চতুর্থাংশই এখন ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এপি আরও জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে তিনটি যুদ্ধবিমান দেখা গেছে।
বিমানগুলো ইরানের আঘাত করার মতো দূরত্বের প্রায় দুই হাজার মেইল দূরে রাখা হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার না করেই বিমানগুলো ওই অঞ্চলে ব্যবহার করা যাবে। আর বিমানগুলো ইরান-সমর্থিত বলে পরিচিত গোষ্ঠীর আক্রমণের আওতার বাইরেও থাকছে।
প্রচলিত ও পারমাণবিক দুই ধরনেরই বোমা বহন করতে সক্ষম বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমান মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে উন্নত বিমানগুলোর একটি। প্রতিপক্ষের দেশের গভীরে প্রবেশ করে ধ্বংসলীলা চালানোর জন্য এই যুদ্ধবিমান ডিজাইন করা হয়েছে। প্রচলিত শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বিমানটি সহজে ধরা পড়ে না।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বোমা হামলার হুমকি, জবাবে ইরান বললো ‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত’
দিয়েগো গার্সিয়ায় যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর সামন আসার পরই দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পকে ইরানে হামলা থেকে বিরত রাখার জন্য ব্রিটেনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ ঘাঁটিতে হামলা চালাতে সামরিক কমান্ডারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, তেহরানের ওই কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘ট্রাম্পের হুমকি আরও গুরুতর হয়ে উঠলে চাগোস দ্বীপ ও এর ঘাঁটিতে আগাম হামলা চালানোর জন্য শীর্ষ কমান্ডারদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমেরিকানরা সেখানে বোমারু বিমান মোতায়েন করার পর থেকে দ্বীপটি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।’
]]>