ইমরানের চিকিৎসার দাবিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে চ্যাপেল-গাভাস্কারদের চিঠি

২ সপ্তাহ আগে
পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে দিন দিন উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। সেই উদ্বেগ এখন পৌঁছে গোটা ক্রিকেটবিশ্বে। ইমরান খানকে যেন ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা ও সুচিকিৎসা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে বিশ্বের ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক সরাসরি চিঠি লিখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে।

চিঠিতে তারা লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান খানের চোখের সমস্যার খবর তাদের গভীরভাবে বিচলিত করেছে। পরিবারের দাবি, কারাগারে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার একটি চোখ প্রায় অন্ধ হয়ে গেছে। এই খবর পাকিস্তানের ভেতরে যেমন উদ্বেগ ছড়িয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

 

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম প্রো স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক চ্যাপেলের উদ্যোগে এই আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে পাঠানো হয়েছে। যেখানে ইমরান খানের কারাবাসের সময় তার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। 

 

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এইজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিটি খসড়া করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল।   
এতে স্বাক্ষর করেছেন, ভারতের সাবেক দুই কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব। অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার, স্টিভ ওয়াহ, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক ও কিম হিউজ এতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের মাইক আথারটন, নাসের হুসেইন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড ও নিউজিল্যান্ডের জন রাইট এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। 

 

চিঠিতে বলা হয়েছে, তার স্বাস্থ্যের সাম্প্রতিক খবর, বিশেষ করে আটক অবস্থায় দৃষ্টিশক্তির উদ্বেগজনক অবনতি এবং গত আড়াই বছরে তার বন্দি জীবনের অবস্থা আমাদের গভীরভারে চিন্তিত করেছে। 

 

আরও পড়ুন: সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় অস্ট্রেলিয়ার

 

ক্রিকেটার হিসেবে ইমরান খানের অবদান তুলে ধরে চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘খেলার প্রতি তার অবদান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। অধিনায়ক হিসেবে ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি। আমাদের অনেকেই তার বিপক্ষে খেলেছি, তার সঙ্গে মাঠ ভাগ করেছি, আবার কেউ কেউ তার অলরাউন্ড নৈপুণ্য, ব্যক্তিত্ব আর প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে বড় হয়েছি। তিনি সেরা অলরাউন্ডার ও অধিনায়কদের একজন। খেলোয়াড়, দর্শক ও প্রশাসকদের কাছ থেকে সমান শ্রদ্ধা পেয়েছেন।’ 

 

এমন একটা সময় এই খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে, যখন ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবস্থা ও কারাগারে তার চিকিৎসা সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে তার পরিবারের সদস্যদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবার দাবি করেছে, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। তবে পাকিস্তান সরকার এখনও সেই অনুরোধের কোনো সাড়া দেয়নি। 

 

গত সপ্তাহে সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস ও শোয়েব আখতারও ইমরানের যথাযথ চিকিৎসার দাবি তুলেছিলেন। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদেরও তার সমর্থনে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন। 

 

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। পরে একাধিক মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। তিনি ও তার সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে তাকে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তার দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হলেও তারা সবচেয়ে বেশি ভোট ও আসন পায়। একই সময়ে, স্ত্রীকে নিয়ম না মেনে বিয়ে করার অভিযোগে তাকে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই সাজা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং পরে সেটি বাতিলও হয়ে যায়। 

 

আরও পড়ুন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে বিসিবির শুভেচ্ছা

 

চিঠিতে সাবেক অধিনায়কেরা আরও লিখেছেন, ‘ক্রিকেটের বাইরে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কঠিন সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক মতভেদ যা-ই থাকুক, তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসেছিলেন, এটা সম্মানের বিষয়।’ 

 

তারা পাকিস্তান সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন, ইমরান খান যেন তার পছন্দের যোগ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত চিকিৎসা পান। কারাবন্দি হিসেবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। আর আইনি প্রক্রিয়ায় যেন বিলম্ব বা বাধা সৃষ্টি না করা হয়।

 

চিঠির শেষ অংশে সাবেক অধিনায়কেরা লিখেছেন, ‘ক্রিকেট দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। আমরা শুধু খেলাধুলার চেতনা আর মানবিকতার খাতিরে এই আবেদন জানাচ্ছি। পাকিস্তানের সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, ইমরানকে তার পছন্দমতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ দেওয়া হোক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাকে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হোক।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন