ইউটিউবার মিল্লাদের মৃত্যু, মালয়েশীয় সেনাসদস্য গ্রেফতার

১৪ ঘন্টা আগে
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি গেমিং ইনফ্লুয়েন্সার মুজাহিদ মিল্লাদের (২২) প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা দেশটি এক সেনাসদস্যের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী নাফিসা তাবাসসুম আবিদা (২০) আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মুজাহিদ মিল্লাদ ‘অ্যাডভান্স গেমিং’ (Advance Gaming) নামেই বেশি পরিচিত। গত বুধবার (২০ এপ্রিল) তিনি মারা যান।


সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের গাড়িটি মাজু এক্সপ্রেসওয়ের বিপরীত লেনে ঢুকে পড়ে এবং একটি ই-হেইলিং যানবাহনকে (উবার/গ্র্যাব জাতীয় গাড়ি) ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই গাড়িতেই মিল্লাদ ও তার স্ত্রী ছিলেন।

 

মালয়েশিয়ায় ঘুরতে গিয়েছিল এই দম্পতি। তারা বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। মিল্লাদের স্ত্রী নাফিসা আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


পুলিশ জানিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক মালয়েশীয় সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


কুয়ালালামপুর ট্রাফিক পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ইসা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘অভিযুক্তের ব্রেথালাইজার টেস্টের ফলাফলে দেখা গেছে, তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।''


তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।


এদিকে, জনপ্রিয় ইউটিউবার মুজাহিদ মিল্লাদের মৃত্যুতে বাংলাদেশের অনলাইন গেমিং কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাকে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করে বিচারের দাবি উঠেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‌‌‘‘মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে একটি প্রাণ ঝরে গেল। একজন নিরপরাধ বাংলাদেশি ইউটিউবার আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেলেন। এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি চরম অন্যায়। আমরা এর বিচার চাই।’’


অন্য এক মন্তব্যকারী বলেন, ‘‘তিনি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। আমরা মুজাহিদ মিল্লাদের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করছি।’’


আহত আদিবার চাচা মহিবুল হাসান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘কীভাবে একজন মদ্যপ ব্যক্তি গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিতে পারে?’’


মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‌‌‘‘তারা এখানে ছুটি কাটাতে এসেছিল, পর্যটক ছিল। একজন মদ্যপ ব্যক্তি কেন গাড়ি চালাচ্ছিল? মাতালদের তো ঘরে থাকা উচিত। তারা কেন রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হয়?’’


তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি এই প্রশ্ন করছি ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন করে কোনো লাভ নেই। সে মাতাল ছিল। এখন আমি দেখতে চাই মালয়েশিয়ার আইন এই বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করে।’’


মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে একজন সেনাসদস্য জড়িত। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যদিও এতে একজন সেনাসদস্য জড়িত, তবুও আমরা পুলিশকে তদন্ত করতে দেব। আসলে কী ঘটেছিল তা আমি এখনই নির্ধারণ করতে পারি না।’’


বর্তমানে মামলাটি মালয়েশিয়ার ১৯৮৭ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪৪(১) ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে, যা মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে ব্যবহৃত হয়।


এই অপরাধের জন্য ১০ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০,০০০ রিঙ্গিত (প্রায় ১২,৫৮৮ মার্কিন ডলার) থেকে ১,০০,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ২০ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১,৫০,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন