আশাশুনিতে বেড়িবাঁধ মেরামত হয়নি, শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

২ দিন আগে
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে আরও ৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে এসব গ্রামের মৎস্য ঘের।

তলিয়ে গেছে  ফসলি জমি। বাড়ি ঘরে কোমর পানি ওঠায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। অনেকে গৃহস্থালির জিনিসপত্রসহ গবাদি পশু নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি স্থানীয় লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে জিও টিউব দিয়ে রিংবাঁধের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


সোমবার (৩১ মার্চ) এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধটি বাঁধার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুন: ঈদ আনন্দেও ভাঙন আতঙ্ক!

সোমবার সকাল ৯টার দিকে আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের বাসার কাছ থেকে প্রায় দেড়’শ ফুট বেড়িবাঁধ হঠাৎ করেই খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। এর ফলে আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, বল্লবপুর, নয়াখালী, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, কাকবাসিয়া ও মীর্জাপুর গ্রামের মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি ভেসে যায়।


প্লাবিত অঞ্চলের একমাত্র আয়ের উৎস মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকা সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে অনেকেই বাড়ি ঘরে পানি ওঠায় উঁচু ডাঙ্গা অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে। নদীর গোড়া পানি ঢুকে পড়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। পানিবন্দি মানুষ খাদ্যের সাথে সাথে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন।


আশাশুনির আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রথম দিনে ৯ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত মৎস্য ঘের। আজ মঙ্গলবার আবার আরও পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আনুলিয়া ইউনিয়নের নয়াখালী, বিছট, বল্লবপুর, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, চেচুয়া, কাকবাশিয়া, মীর্জাপুরসহ আশপাশের প্রায় ১৪ টি গ্রাম। প্লাবিত এলাকার মানুষ বর্তমানে কেউ কেউ বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। গরু-ছাগল, হাঁস মুরগিসহ গৃহস্থালির জিনিসপত্র নিয়ে প্লাবিত অঞ্চলের মানুষ নিদারুণ কষ্টের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে আনুলিয়া ইউনিয়নসহ পাশের খাজরা ও বড়দল ইউনয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: নদীভাঙন / ভোলায় হুমকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও শহররক্ষা বাঁধ

মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ মোস্তাক আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ড-সাতক্ষীরা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণা রায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।


সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, জিও টিউন দিয়ে রিংবাঁধের কাজ চলছে। পরবর্তীতে ভেঙে যাওয়া বাঁধও সংস্কার  করা হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন