আমাদের রমজানের প্রস্তুতি কেমন হওয়া চাই

২ সপ্তাহ আগে
পবিত্র মাহে রমজান ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি। মাহে রমজান মাস হলো, পবিত্র শাবান মাসের আগের মাস। মাহে রমজানের বহু ফজিলত, তাৎপর্য, গুরুত্ব ও মাসআলা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বর্নিত হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান একটি ফজিলত পূর্ণ মাস। এই মাসে আল্লাহ তায়া’লা আসমানের দরজা সমূহ খুলে দেয়। জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়। জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়। শয়তান কে শিকলবন্দী করে দেয়। (বুখারী-১৮৯৯, ৩২৭৭, মুসলিম-১০৭৯)।

পবিত্র মাহে রমজান আল্লাহ'র সন্তুষ্টির ও তাকওয়া বা খোদা ভীতি অর্জন এবং আত্মা পরিশুদ্ধির মাধ্যম। পবিত্র মাহে রমজান আমাদের জন্য ফরজ করা হয়েছে, যে ভাবে পূর্ববর্তী মানুষের জন্য করা হয়েছিল। জেন আমরা পরিপূর্ণ আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারি। সূরা বাকারাহ, ১৮৩)। প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা. রমজানের দুমাস আগে থেকে রমজানের খুবই গুরুত্বের সাথে মাহে রমজানের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আমরা সহিহ হাদিস থেকে জানতে পারি রাসুল (স.) রজব মাস থেকে এই দোয়া বেশি বেশি পড়তেন, আল্লাহুমা বারিক লানা ফি রজাবা ও শাবান ও বাল্লিগ না রমদান। (বাইহাকী-৩৫৩৪)।

 

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে আমরা


পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য জানতে পারিলাম। আলোচনা থেকে বুজতে পারছি যে, এই গুরুত্বপূর্ণ মাসের জন্য অতি গুরুত্বের সাথে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

আমরা মুসলিম ভাই-বোনেরা ও তরুন সমাজ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি নিতে পারি। ১. তাওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে পূর্বের গুনাহের জন্য তাওবা করা। আমরা যেহেতু একটি বরকতময় মাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তাই দ্রুত সময়ে তাওবা করা জরুরি। কারন তাওবা করা ওয়াজিব। 

 

আরও পড়ুন: রমজান কবে জানা যাবে বুধবার

 

আল্লাহ বলেছেন, হে মুমিনগণ তোমরা সবাই তাওবা করো, যাতে সফল হতে পারে। (সূরা-নুর:৩১)। রাসুল সা. বলেছেন, হে লোকেরা তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, আমি তাঁর কাছে দৈনিক ১০০ তাওবা ও ইস্তেগফার করি। (সহিহ্ মুসলিম: ২৭০২)। 

 

২. আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে কল্যাণ কামনা করা। অনেক সালাফের জীবনে আমরা দেখতে পাই, তাঁরা রমজানের ছয় মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিতেন এবং দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তায়া’লা তাদের রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করে। রাসুল (দ.)  দুই মাস আগে থেকে গুরুত্বের সাথে দোয়া করতেন জেন রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করেন। (বাইহাকী:৩৫৩৪)। 


৩. মাহে রমজানের শুরুর আগে মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া। ডায়াবেটিক ও গ্যাসের সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। কিছু কিছু রোজা রাখা। তাহলে সমস্যা গুলো বুজে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

 

৪. রোজা শুরুর আগে কাজা রোজা গুলো পুরা করা। ৫. রমজানের মাসআলা গুলো ভালো ভাবে জেনে নেওয়া। বিশেষ ভাবে রোজা ভঙ্গের কারন সমূহ। মাহে রমজান সম্পর্কিত কিতাবাদী বেশি বেশি পড়া জরুরী। বিজ্ঞ ওলামায়ে হজরতের আলোচনা শ্রবণ করা।


৬. পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শিখে নেওয়া জরুরি এবং পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শিক্ষা করা ফরজ। কুরআন শিখে রমজানে বেশি বেশি তেলাওয়াত করা জরুরী। কারন রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস। (সূরা বাকারার ১৮৫)। 

 

৭. বিগত মাহে রমজানের অসমাপ্ত কাজ গুলো চিহ্নিত করা। যেমন; তারাবি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ইতেকাফ, দান-সদকা, পরিবারের হক আদায়, গরিব প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া সহ ইত্যাদি বিষয় গুলো চিহ্নিত করা। ৮. যাবতীয় গোনাহ থেকে বিরত থাকা ও আগের গোনাহ গুলে চিহ্নিত করা। যেমন: শিরক, হিংসা, ফাসাদ, গীবত ও তোহমত হতে বিরত থাকা। 

 

এই সমস্ত গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৯. রমজানের আগে নেক দোয়া ও নেক আমলের অনুশীলন করা। যেমন; তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস, তাহাজ্জুদের সময় ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস ও বিয়েশাদি, চাকুরী, বিদেশ সফর সহ সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা এবং কুরআন ও হাদিসে বর্নিত দোয়া সমূহ ভালো ভাবে মুখস্থ করা। 

 

যাতে রমজানে ইফতারির আগে ও তাহাজ্জুদ নামাজে এই দোয়া সমূহ বেশি বেশি পড়তে পারি। ১০. শাবান মাসের শেষ দিকে ২৯ তারিখ মাহে রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করা। 

 

১১. মাহে রমজান উপলক্ষে  ২৪ ঘন্টার রুটিন তৈরি করা। সে রুটিন অনুযায়ী আমালের প্রস্তুতি নেওয়া। আল্লাহ তায়া’লা আমাদের প্রস্তুতি কবুল করুক, আমিন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন