বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থ প্রবাহের পরিমাণ প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার করে পাচার হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের পাচার করা অর্থ ও দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স ১১টি মামলাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী; এস আলম গ্রুপ; বেক্সিমকো গ্রুপ; সিকদার গ্রুপ; বসুন্ধরা গ্রুপ; নাসা গ্রুপ; ওরিয়ন গ্রুপ; নাবিল গ্রুপ; এইচ বি এম ইকবাল ও তার পরিবার এবং ১১. সামিট গ্রুপ ও এদের প্রত্যেকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: অব্যবহৃত ২০০ ভবন হবে হাসপাতাল ও মাতৃসদন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার করা অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও সম্পদ শনাক্তকরণের কাজ চলছে। অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের মধ্যে ৩টি দেশ চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে। বাকি ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশেও ১৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে।
অর্থ পাচারের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলায় আদালত রায় প্রদান করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।

১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·