‘অশ্লীল কনটেন্ট’ ছড়ানোর অভিযোগে মালয়েশিয়ায় গ্রোকের ওপর নিষেধাজ্ঞা

২ দিন আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মালয়েশিয়া। রোববার (১১ জানুয়ারি) দেশটির প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থা মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি) এই ঘোষণা দেয়।

এমসিএমসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রোক ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের অত্যন্ত আপত্তিকর, অশালীন এবং সম্মতিহীন বিকৃত ছবি তৈরি করা হচ্ছিল। সাধারণ টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করেই এই ধরনের ‘ডিপফেক’ বা বিকৃত ছবি তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

মালয়েশিয়া সরকার মনে করছে, এই এআই টুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং এটি সরাসরি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

 

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং মাস্কের এআই স্টার্টআপ ‘xAI’-কে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। প্ল্যাটফর্মটি মূলত ব্যবহারকারীদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেয়, যা এ ধরনের স্পর্শকাতর কনটেন্ট রোধে পর্যাপ্ত নয়। 

 

এমসিএমসি স্পষ্ট জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সন্তোষজনক ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হবে, ততক্ষণ মালয়েশিয়ায় এই টুলের অ্যাক্সেস বন্ধ থাকবে। 

 

আরও পড়ুন: এআই ভিডিওতে তোলপাড়, ‘আন্তর্জাতিক সম্মেলনে’ চা বিক্রি করছেন মোদি!

 

মালয়েশিয়ার আগে প্রথম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া গ্রোক-এর ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি অধিকারকর্মীরাও এই এআই টুলের নীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। 

 

এক্স করপোরেশন তাদের প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নীতির দোহাই দিয়ে দায় এড়াতে চাইলেও, সমালোচকদের মতে এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়। 

 

এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘xAI’-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা একটি স্বয়ংক্রিয় উত্তরে লিখেছে, ‘লেগাসি মিডিয়া মিথ্যা বলছে’। তবে এক্স করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

 

মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় অনলাইন কনটেন্ট এবং পর্নোগ্রাফি বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর আইন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে দেশটি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন