অবসরের ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো সরফরাজ

৪ সপ্তাহ আগে
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ও গৌরবময় ক্যারিয়ারের পর তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন।

উইকেটকিপার-ব্যাটার সারফরাজ ২০১৭ সালে পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা এনে দিয়ে বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন। তিন ফরম্যাটেই দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে তিনি বিদায় নিচ্ছেন।


২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে সরফরাজের ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়। এরপর ২০১০ সালে টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়।


আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি পাকিস্তানের হয়ে মোট ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। সব মিলিয়ে তিনি ৬,১৬৪ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি হাফ-সেঞ্চুরি।


উইকেটের পেছনেও তিনি ছিলেন সমান কার্যকর। কিপিং করতে গিয়ে তিনি মোট ৩১৫টি ক্যাচ ধরেছেন এবং ৫৬টি স্টাম্পিং করেছেন।

 

আরও পড়ুন: নির্বাচক ইনজুরির কথা বলার পর বাবরের ইনস্টাগ্রামে এডিটেড ‘ভাঙা’ পায়ের ছবি


সারফরাজের নেতৃত্বের সময়টাও ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি পাকিস্তানকে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। তার অধিনায়কত্বে পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর র‍্যাঙ্কিং অর্জন করে।


তার নেতৃত্বে পাকিস্তান টানা ১১টি টি–টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়ে এবং ছয়টি সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করে। এর মধ্যে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দুইবার), শ্রীলঙ্কা,   অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়।


সরফরাজের অধিনায়কত্বে পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের অনেক তারকার উত্থান ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান এবং শাদাব খানদের প্রথম সুযোগ তিনিই করে দেন।


তার অধিনায়কত্বের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৭ সালে। তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে। ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যাচটি হয়েছিল লন্ডনের দ্য ওভাল মাঠে।


এই জয়ের মাধ্যমে সারফরাজ পাকিস্তানের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতেন। এছাড়া তিনি একমাত্র অধিনায়ক যিনি জুনিয়র ও সিনিয়র দুই পর্যায়েই আইসিসি শিরোপা জিতেছেন। এর আগে তিনি ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে শিরোপা এনে দেন।


 

🏆🏆 ICC U19 Cricket World Cup 2006 and ICC Champions Trophy 2017 winning captain ✨

Congratulations @SarfarazA_54 on a distinguished international career spanning around two decades. Thank you for your services! 👏

More details ➡️ https://t.co/1346GEBFy3 pic.twitter.com/Ku1HUdO7pM

— Pakistan Cricket (@TheRealPCB) March 15, 2026


পাকিস্তান ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তিনি 'প্রাইড অব পারফরম্যান্স' পুরস্কার পান।


ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও তার নাম রয়েছে ইতিহাসে। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গে একটি টেস্ট ম্যাচে তিনি ১০টি ক্যাচ নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড গড়েন।


এছাড়া তিনি একমাত্র পাকিস্তানি উইকেটকিপার-ব্যাটার যিনি ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছেন। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি এই কীর্তি গড়েন।


তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ।


অবসর ঘোষণার সময় সারফরাজ বলেন, পাকিস্তানের হয়ে খেলাটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা থেকে শুরু করে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি—সব মুহূর্তই তার কাছে বিশেষ।

 

আরও পড়ুন: যেই আবরারকে নিয়ে এতো আলোচনা, দ্য হানড্রেডে তার খেলা নিয়েই সংশয়


তিনি বলেন, 'পাকিস্তানের হয়ে খেলাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা থেকে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তোলা; সব মুহূর্তই আমার জন্য বিশেষ। সতীর্থ, কোচ, পরিবার এবং সমর্থকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।'


আরও বলেন, পাকিস্তানকে তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়া তার স্বপ্নপূরণ ছিল। তার অধিনায়কত্বে বাবর আজম, ফখর জামান, হাসান আলী, শাহিন আফ্রিদি এবং শাদাব খানদের মতো খেলোয়াড়দের ম্যাচ জেতানো তার জন্য গর্বের বিষয়।


সবশেষে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট সবসময়ই তার হৃদয়ের খুব কাছে থাকবে এবং ভবিষ্যতেও তিনি এই খেলাকে সমর্থন করে যাবেন।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন