অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৪ সপ্তাহ আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা কিছু অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে আনা হবে আর কিছু সংশোধন আকারে আবার কিছু বাতিল হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত বিশেষ কমিটির মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

 

এদিকে ওই বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সব সদস্য ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

 

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এরইমধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ এবং দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সবাই একমত হয়েছেন। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপনের জন্য একমত হয়েছে এ নিয়ে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটি। বিশটি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশে একমত সবাই। তবে, দুদক, বিচার বিভাগ, গণভোট ও পুলিশ সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল করতে চায় বিএনপি-জামায়াতের এমন বক্তব্যকে অসত্য বলছে বিএনপি। জামায়াত বলছে, জুলাই বিরোধী কোনোকিছু মেনে নেবে না তারা।

 

আরও পড়ুন: জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশে একমত সবাই: আইনমন্ত্রী

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ বিশেষ কমিটির বৈঠকটি আজ দুপুর ২টায় শুরু হয়।

 

এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টায় প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কোনগুলো স্থায়ী আইন হিসেবে বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়াই এই কমিটির মূল দায়িত্ব।

 

গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম।

 

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ১৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে ২৯ মার্চের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন